শ্রমিক আন্দোলনে নিষিদ্ধ সংগঠনের ইন্ধন দেখছে পুলিশ

গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন
পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের আন্দোলনে যুক্ত থাকার তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবির আন্দোলনের আজ (রবিবার) তৃতীয় দিন। এদিন গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী, চান্দনা চৌরাস্তা ও ভোগড়া এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হাজারো শ্রমিক সড়কে নেমে মহাসড়ক অবরোধ করেন। কয়েকটি কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার আগামীর সময়কে বলেন, ‘শ্রমিকদের আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের কর্মীদের সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের এ আন্দোলনে যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এসংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিক নেতারা। বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক আক্তারুজ্জামান বাবুল বলেন, ‘শ্রমিকদের সড়কে নামানোর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে। এক মাস আগেই গাজীপুর থেকে সরকারকে অবহিত করা হয়েছিল যে ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে পোশাক শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার মৌচাক এলাকায় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে শ্রমিকদের উসকানি ও নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। একটি কুচক্রী মহল শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’
আন্দোলনের মধ্যে বহিরাগতদের উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শ্রমিকও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক আগামীর সময়কে বলেন, আন্দোলন চলাকালে বেশ কিছু অপরিচিত ও অতি উৎসাহী লোককে দেখেছেন। এসব ব্যক্তি বারবার শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছিলেন। তবে হাজারো শ্রমিকের ভিড়ে তাদের চিহ্নিত করা কঠিন।
রবিবার সকাল থেকে কোনাবাড়ী এলাকায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন। বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ভাঙচুর ও দোকানপাট লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে আন্দোলনের প্রথম দুই দিন কালিয়াকৈর, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকরা। রবিবার আন্দোলন মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ভাঙচুরের আশঙ্কায় কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সকাল থেকে আন্দোলন শুরু করেন। দুপুরের দিকে তারা মহাসড়ক ছেড়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।’
এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ডে নতুন সদস্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি নিয়োগের পাশাপাশি তৈরি পোশাকশিল্পের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য পৃথক প্রতিনিধি মনোনীত করা হয়েছে।
গাজীপুর একতা গার্মেন্টস ফেডারেশনের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কাজ করবে। শ্রমিকদের দাবি পূরণে তারা কাজ করছেন। তবে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদুর রহমান রুবেল জানান, কারখানা এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।





