পাঁচ বিঘা বাগানে ১৪৬ প্রজাতির গাছ

খুলনার ডুমুরিয়ায় হাসপাতালের আঙিনায় ভেষজ বাগান
সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি ভেষজ ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা দেওয়া হয় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরের দলিত হাসপাতালে। হাসপাতালটির প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ১৪৬ প্রজাতির পাঁচ শতাধিক ঔষধি গাছের এক সমৃদ্ধ ভেষজ বাগান। সারি সারি গাছে ঝুলছে পরিচিতিমূলক ফলক; রয়েছে অর্জুন, নিম, আমলকী, অশ্বগন্ধা, বাসকসহ নানা প্রজাতির উদ্ভিদ। ভেষজ উদ্ভিদ সংরক্ষণ, এ সম্পর্কে মানুষের ধারণা বাড়ানো এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্য নিয়ে বেসরকারি সংস্থা দলিত গড়ে তুলেছে এই ব্যতিক্রমী বাগান।
২০০৪ সালে হাসপাতাল কমপ্লেক্সে ভেষজ বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক প্রভাষ কুমার দাস বললেন, ‘গাছগাছালির মাধ্যমে চিকিৎসার প্রাচীন ধারার সঙ্গে মানুষকে পরিচিত রাখা এবং ভেষজ উদ্ভিদ সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
বাগানে পুনর্নবা, জিনসিং, ব্রাহ্মী, গুলঞ্চ, হাড়জোড়া, তুলসী, কাঞ্চন, অশোক, শিবজটা, জাফরান, লজ্জাবতী, আকন্দ, অনন্তমূল, শতাবরী, সাদা চন্দন, কুমারী লতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। হাসপাতাল কমপ্লেক্সের প্রায় এলাকা জুড়েই এসব উদ্ভিদ লাগানো হয়েছে।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (ভেষজ) তাপস বাগচির ভাষায়, ভেষজ চিকিৎসা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে বাগানের গাছগুলো কাজে লাগানো হয়। যেমন অর্জুন ও নিমের প্রচলিত ব্যবহার সম্পর্কে রোগীদের জানানো হয়। তবে চিকিৎসার ওষুধ তৈরির উপাদান বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়; বাগানের গাছগুলো মূলত পরিচিতি ও সচেতনতা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মোংলা থেকে মাইগ্রেনের চিকিৎসা নিতে আসা মোহাম্মদ সাইদ বললেন, ‘তিন সপ্তাহ ধরে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন ভালো বোধ করছেন।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক উত্তম দাসের ভাষ্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভেষজ উদ্ভিদের পরিচিতি তুলে ধরা এবং এসব গাছ সংরক্ষণের গুরুত্ব বোঝাতেই বাগানটি গড়ে তোলা হয়েছে।



