এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে।
একটি সিআর মামলার ঘটনায় নিজে সরেজমিন তদন্ত না করে ১৪তম গ্রেডের এক কর্মকর্তা ও জারীকারককে দিয়ে তদন্ত করিয়ে সেই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
গত মঙ্গলবার নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবর এমন লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহেল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৯-এ মামলাটি করা হয়। মামলা নম্বর ১৯৮/২৬। মামলার বাদী জসিম উদ্দিন। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি নেন। নালিশি দরখাস্ত ও অভিযোগকারীর জবানবন্দি পর্যালোচনা করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। গত ২১ মে নালিশি দরখাস্তে বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাক্ষীদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য কবিরহাট উপজেলা কমিশনারকে লিখিত আদেশ দেন আদালত।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, সানজিয়াকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। ঘটনাস্থলে না গিয়ে ১৪তম গ্রেডের কবিরহাট উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জহিরুল ইসলাম ও জারীকারক কামাল উদ্দিনকে দিয়ে সরেজমিন তদন্ত করান তিনি। পরে ওই কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
মোহাম্মদ সোহেল বলেছেন, আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে ১৪তম গ্রেডের কর্মকর্তা ও জারীকারকের মাধ্যমে তদন্ত করানো আদালতের আদেশের পরিপন্থী। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবার লিখিত অভিযোগ করেছি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া আবেদন জানিয়েছি। বিষয়টি আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকেও অবহিত করব।’
কবিরহাট উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জহিরুল ইসলাম সরেজমিনে তদন্ত যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বললেন, ‘আমি নিজ থেকে তদন্তে যাইনি। ম্যাডামের (সানজিয়া) নির্দেশে আমরা তদন্তে গিয়েছি।
অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে সানজিয়া মন্তব্য করেন, বিবাদীদের জবানবন্দি নেওয়ার আমাদের কোনো সুযোগ নেই। তারপরও ওই যুবকের বার বার সুপারিশের কারণে আমরা বিবাদীদের বক্তব্য নেই। আমাদের শুধু বাদীপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি লিখিতভাবে আদালতে পাঠানোর কথা। বরং আমরা বিবাদীর জবানবন্দিসহ পাঠিয়েছি। তারপরও তিনি যদি অভিযোগ করেন, তাহলে তার প্রমাণসহ অভিযোগ করা উচিত বলে আমি মনে করি।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো.ইয়াছিনের ভাষ্য, আদালত যদি কাউকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে থাকে, সেটি সংশ্লিষ্ট আদালতের বিষয়। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তবে তদন্ত নিয়ে ভুক্তভোগী সন্তুষ্ট না হলে তিনি আদালতে নারাজি দিবেন।








