আদালতের রায়ে ট্রাম্পের শুল্কের ১০০ বিলিয়ন ডলার ফেরত

ছবি: রয়টার্স
আদালতের রায়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কনীতি। সেই রায়ের পর শুল্ক বাবদ আদায় করা প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হয়েছে মার্কিন প্রশাসনকে। একই সময়ে নতুন শুল্ক আরোপ করায় আবারও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে (কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড) জমা দেওয়া কাস্টমস কর্মকর্তাদের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক থেকে আদায় হয়েছিল ১৬৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ফেরত দেয়া হয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ১০০ বিলিয়ন ডলার।
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান উপাদান ছিল আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপ করা এই শুল্ক। গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন তিনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্কের একটি বড় অংশ অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর যেসব প্রতিষ্ঠান শুল্ক পরিশোধ করেছিল, তাদের অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হয় সরকার।
ট্রাম্পের দাবি, শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বাড়বে দেশের উৎপাদন, বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছাবে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে এবং কমবে কেন্দ্রীয় বাজেটের ঘাটতি।
তবে সরকারি তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে কিছুটা কমলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি বেড়ে পৌঁছেছে ১ দশমিক ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলারে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এ ঘাটতি ২ শতাংশ বেশি।
এরই মধ্যে গত মাসে যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৮০টির বেশি দেশের ওপর নতুন করে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। আগের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়।
১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে প্রশাসন। জোরপূর্বক শ্রমের সঙ্গে জড়িত দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এ ধারার বিধান রয়েছে।
তবে নতুন শুল্ক নিয়েও শুরু হয়েছে আইনি লড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্যের একটি জোট এ সপ্তাহে মামলা করেছে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তাদের অভিযোগ, ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট যে আমদানি শুল্ক বাতিল করেছিল, তারই বিকল্প হিসেবে আরোপ করা হয়েছেনতুন এই শুল্ক।
বাদী অঙ্গরাজ্যগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের কাছে নতুন শুল্ক স্থগিত, তা অবৈধ ঘোষণা এবং আদায় করা শুল্ক ফেরত দেওয়ার নির্দেশ চেয়েছে।




