সুন্দরবনে দুই বছরে পাওয়া যায়নি কোনো বাঘের মৃত্যুর খবর

ফাইল ছবি
গত আড়াই দশকে লোকালয়ে ঢুকে মানুষের হাতে, পাচারকারী ও চোরা শিকারিদের হাতে কিংবা প্রাকৃতিক কারণে ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের পর থেকে একটি বাঘও হত্যা বা মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি সুন্দরবনে।
তবে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকায় শিকারিদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়েছিল একটি বাঘিনী। পরে বন বিভাগ বাঘটি উদ্ধারের পর ছয় মাস চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। সেই বাঘিনীটি ১২ জুলাই অবমুক্ত করা হয় সুন্দরবনে। বাঘিনীর চলাচল পর্যবেক্ষণে বনের ৮ কিলোমিটার এলাকায় বসানো হয় স্বয়ংক্রিয় ২০টি ট্র্যাপ-ক্যামেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সাল থেকে আড়াই দশকে পূর্ব সুন্দরবনে ৩০টিসহ মোট ৯১টি বাঘের মৃত্যুর রেকর্ড রয়েছে বন বিভাগের কাছে। এর মধ্যে পাচারকারী ও চোরা শিকারিদের হাতে ২৬টি, গ্রামবাসীর পিটুনিতে ১৪টি, বনদস্যুদের হাতে ১৮টি, বার্ধক্যজনিত কারণে ২১টি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনটি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হয়, এর বাইরেও হত্যার শিকার হয়েছে আরও বাঘ। অন্যদিকে বাঘের অক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে ৪২৫ জন এবং আহত হয়েছেন ৯৫ জন।
জানা গেছে, আইনের প্রয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি, বনজীবীদের সচেতনতা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ফলে সম্প্রতি কমেছে মানুষ-বাঘের দ্বন্দ্ব-সংঘাত।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বন বিভাগ এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে। স্মার্ট প্যাট্রলিং, ড্রোনের ব্যবহার এবং ফুট পেট্রলিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ২০২৪ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত একটি বাঘের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বাঘ সুরক্ষায় লোকালয়-সংলগ্ন এলাকায় ৭৫ কিলোমিটার জুড়ে বেড়া নির্মাণ, সুপেয় পানির পুকুর খনন, আশ্রয়ের জন্য টিলা নির্মাণ, ভরাট হওয়া ভোলা নদী খননসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাঘ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এবং জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. এম এ আজিজ বললেন, ‘বাঘ রক্ষা করতে হলে আগে হরিণ শিকার বন্ধ করতে হবে। কারণ বাঘের প্রধানত খাদ্য হরিণ। খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়লে বাঘের টিকে থাকা মুশকিল। তাই চোরাশিকারিদের দমন জরুরি।’




