৪০০ মায়ের জন্য ভালোবাসা

যশোর শহরের রেলগেট এলাকার ছোট্ট ঘরে বসে আজমেরী বেগম, ঈদের বাজারের হিসাব মেলান না বহু বছর। স্বামী আকবার হোসেন মারা যাওয়ার পর সংসারের দায়, অভাব আর নিঃসঙ্গতা— সব টেনে নিয়েছেন একাই। বয়স এখন সত্তর পেরিয়েছে। শরীর ক্লান্ত, কিন্তু চোখে এখনো বেঁচে থাকার একরাশ আকুতি।
একই গল্প যেন খড়কীর রহিমা বেগমেরও। স্বামী হারানোর পর দীর্ঘ সময় কেটেছে একাকিত্ব। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাদের সবচেয়ে বড় ভয় ছিল— অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়া। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জয়তী সোসাইটি সেই ভয়টাকেই বদলে দিতে চাইছে অন্য এক অনুভূতিতে-আপনত্বে।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার সংগঠনটির মিলনায়তনে জড়ো হয়েছিলেন অন্তত ৪০০ প্রবীণ নারী। কারও হাতে ছিল লাঠি, কেউ এসেছেন মেয়ের কাঁধে ভর দিয়ে। কিন্তু সবার চোখেই ছিল এক ধরনের অপেক্ষা— কেউ যে এখনো তাদের কথা ভাবে, সেই অনুভূতির অপেক্ষা।
ঈদ উপহার হিসেবে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় চাল, ডাল, চিনি ও সেমাইসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। ছোট এ সহায়তাই অনেকের কাছে হয়ে ওঠে উৎসবের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
২০০২ সালে নারীর অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করে সংগঠনটি। ২০০৮ সালে চালু করে ‘ষাটোর্ধ্ব নারীসেবা কর্মসূচি’। শুরুতে ১১৩ জন নারীকে নিয়ে শুরু হলেও এখন এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন ৪০০ প্রবীণ মা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি ঘোষণা দেন, ঈদের পর জুনের প্রথম সপ্তাহে প্রবীণ নারীদের জন্য আয়োজন করা হবে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প। সেখানে বিনামূল্যে চোখের অপারেশন, প্রয়োজনীয় সার্জারি ও দেওয়া হবে ওষুধ।






