পরিকল্পিতভাবে পাশের দেশ থেকে মাদক ঢুকছে, অভিযোগ আইনমন্ত্রীর

খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় কথা বলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: আগামীর সময়
পরিকল্পিতভাবে পাশের দেশ থেকে বাংলাদেশে মাদক ঢোকানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের পাশাপাশি চোরাকারবারিরা ড্রোনের মাধ্যমেও ইয়াবা পাঠাচ্ছে। এটি এক ধরনের আগ্রাসন। এর ফলে সন্ত্রাস বাড়ছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে সরকার।
আজ সোমবার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন।
আইনমন্ত্রী বলেছেন, গত ১৭ বছরে দেশে মানবতাবিরোধী মহাযজ্ঞ চলেছে। প্রশাসনকে এমনভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে যে, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি তারই বহিঃপ্রকাশ। বর্তমান সরকারের বয়স ছয় মাস। আবর্জনা পরিষ্কার করতে সরকারকে সময় দিতে হবে। একটি ঘুনে ধরা সমাজব্যবস্থা পরিষ্কার করার কাজ চলছে।
সন্ত্রাস দমনে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, সরকার ক্রসফায়ারের পথে যাবে না। সন্ত্রাস দমনে দেশে যে আইন রয়েছে, সেটিই যথেষ্ট। প্রয়োজন হলে আইনে পরিবর্তনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।
মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিটি নিরপেক্ষ রাখতে স্পিকারকে প্রধান করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের বিষয়েও কমিশন তদন্ত করতে পারে।
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেছেন আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। বিচারপ্রার্থী মানুষ যাতে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান, সেদিকে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফসহ নানা কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। জনগণের সেবায় সরকার বিশ্বাসী।
সাইবার সুরক্ষা ও অনলাইন নিরাপত্তার জন্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মাদক ও জুয়া-সংক্রান্ত আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় খুলনার আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। এতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, আইনজীবী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
এর আগে সকাল ৯টায় জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে খুলনা জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। এ সময় তিনি দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে আদালতের মামলা জট কমানোর জন্য বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান।




