বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে নিয়োগ স্থগিতের দাবি

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে চলমান নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়েছেন ৮৭ জন কর্মচারী। নতুন নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে খনির আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
আজ রবিবার সকাল ১১টায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির আবাসিক গেটের সামনে ৮৭ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে স্থানীয় বিএনপির নেতারাও অংশ নিয়ে কর্মচারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে কর্মচারীরা জানান, ২০০৯ সালের ১৫ মে খনি কর্তৃপক্ষ বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল) এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তির ৮ নম্বর ধারায় খনিতে চাকরির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা শিথিল করে ক্ষতিগ্রস্তদের চাকরি দেওয়ার সুপারিশ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের দীর্ঘদিন ধরে আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
কর্মচারীরা জানান, চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ৮৭ জন হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের পর হাইকোর্টের একটি রায়ে কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে তাদের অভিযোগ, নির্দেশনার পরও খনি কর্তৃপক্ষ নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করেছে। এতে দেশের সব চাকরিপ্রার্থীর আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তাদের দাবি, এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে খনিতে কর্মরত ৮৭ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীর পাশাপাশি বহিরাগতরাও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ নিয়োগ পরীক্ষায় খনির কয়েকজন কর্মকর্তার পছন্দের প্রার্থীদের উত্তীর্ণ দেখিয়ে চাকরি দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগও তোলেন কর্মচারীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা চলমান নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী খনিতে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানান। এ জন্য সহজ পদ্ধতিতে পরীক্ষার আয়োজনেরও দাবি করেন তারা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পার্বতীপুর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, বিএনপি নেতা দিপঙ্কর শাহা, ডা. মোমিনুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম বাবু। আউটসোর্সিং কর্মচারীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন আদালতে রিটকারী শ্রমিক নেতা তোফায়েল আহমেদ, আবু বক্কর সিদ্দিক, আবুল খায়ের, সাখাওয়াত হোসেন, এরশাদ ও গোলাম মোস্তফা।
তবে কর্মচারীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির জিএম (প্রশাসন) মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেছেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং সরকারি ও কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী শুধু কর্মরত কর্মচারীদের নয়, দেশের সব যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথমে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।




