ফেসবুকে নির্যাতনের অভিযোগের পর গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, ‘কথিত’ স্বামী গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার মাসুদ
বাগেরহাটের শরণখোলায় ফেসবুক লাইভে নির্যাতনের অভিযোগ তোলার পর গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ
গৃহবধূ শান্তা আক্তার জুঁইয়ের (২৬) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার ‘কথিত স্বামী’ মাসুদ খাঁনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানার শিরোমণি বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৬।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তাকে আদালতে পাঠায় শরণখোলা থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার মাসুদ খাঁন শরণখোলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামের মৃত শাহজাহান খাঁনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে মাসুদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন জুঁই। তার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ভাড়া বাসা থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় জুঁইয়ের মা শামছুন্নাহার রুনু বাদী হয়ে মাসুদ খাঁনকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে শরণখোলা থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে একই এলাকার কুয়েতপ্রবাসী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে জুঁইয়ের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। আনোয়ার প্রবাসে থাকার সময় পাশের গ্রামের মাসুদের সঙ্গে জুঁইয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে মাসুদ তাকে নিয়ে চলে যান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে গত ৫ অক্টোবর শরণখোলা উপজেলা সদরের কদমতলা গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে মাসুদ জুঁইকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে জুঁই আত্মহত্যা করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, ‘গৃহবধূ শান্তা আক্তার জুঁইয়ের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় অভিযুক্ত মাসুদ খাঁনকে খুলনার এসআরবি-৬ গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’



