গজারিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৩

ছবি: আগামীর সময়
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় একটি ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয় ও কয়েকটি বসতঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার চর বলাকী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন মুসা (৭০), সুমন (৩৫) ও জিকু (২৮)। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত সুমন ও জিকুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক হোসেন্দী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব একে সুমন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক উপজেলা যুবদলের সদস্য আনোয়ার প্রধানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
সোমবার দুপুরে স্থানীয় ঈদগাহ-সংলগ্ন সড়কে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় বিএনপির একটি ওয়ার্ড কার্যালয়ের টিনের বেড়া, কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার এবং পাশের ৭ থেকে ৮টি বসতঘরে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হোসেন্দী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব একে সুমনের দাবি, আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে নিজেদের ঘরবাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তার ভাষ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা যুবদলের সদস্য আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, স্থানীয় যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলাম ও একে সুমনের নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলায় তাদের পার্টি অফিস, তার বসতঘর এবং আরও কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান আহম্মেদ জানালেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই গোষ্ঠীকেন্দ্রিক বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগেও গত বছরের ৫ এপ্রিল ও ২৪ সেপ্টেম্বর একই গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওইসব ঘটনায় অন্তত ১৯ জন আহত হন এবং বহু বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।




