স্কুলে না গিয়েও হাজিরা খাতায় উপস্থিত শিক্ষিকা, বেতন-ভাতা পান নিয়মিত

সংগৃহীত ছবি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গুয়াবাড়িয়া এবি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (লাইব্রেরিয়ান) রিনা পারভিনের বিরুদ্ধে। তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের স্ত্রী।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় তার নিয়মিত উপস্থিতি দেখানো হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রিনা পারভিন ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়টিতে সহকারী শিক্ষক (লাইব্রেরিয়ান) পদে নিয়োগ পান। পরে ২০১৭ সালের ১ মে তিনি এমপিওভুক্ত হন। এর আগে তিনি একই বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করেছেন বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রের অভিযোগ, এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকেও সরকারি বেতন-ভাতা নিচ্ছেন তিনি।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তারা রিনা পারভিনকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে দেখেননি। বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির দাবি, প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
তাদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করলেই তিনি নিয়মিত উপস্থিত থাকেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকলেও প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বজন হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও দাবি করেন, বিষয়টি গলাচিপা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গলাচিপা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি গলাচিপায় ১১ বছর ধরে কর্মরত আছি। তিনি বিদ্যালয়ে যান না, এ বিষয়টি জানতে পারার পর থেকে গলাচিপা উপজেলায় যত শিক্ষা কর্মকর্তা এসেছেন, প্রত্যেককেই জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার বিদ্যালয়ে গিয়েও রিনা পারভিনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সালাম বিনিময়ের পর সাংবাদিক পরিচয় দিতেই তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি একটা কথা বলছি যে, মানসিকভাবে আমি প্রস্তুত নই। এ বিষয়ে আমি বক্তব্য না দিলে কেউ দিবে না।’
গলাচিপা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মূলত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। শুধু লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারে। বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির ওপর নির্ভর করে। তারাই শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ দেয়, বেতন দেয় এবং সার্বিক বিষয়ে তদারকি করে। আমরা শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারি।’
স্থানীয়রা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, রিনা পারভিনের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির তথ্য, উপস্থিতির রেকর্ড, হাজিরা খাতা, বেতন-ভাতা গ্রহণের নথি এবং বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।



