১০১ মোমবাতির আলোয় ঋত্বিককে স্মরণ, বসতভিটা সংরক্ষণের দাবি

ছবি: আগামীর সময়
একসময় এ বাড়িতেই কেটেছে তার জীবনের শৈশবের দিনগুলো। এখানকার স্মৃতি জড়িয়ে আছে তার জীবনের সঙ্গে। পরে চলচ্চিত্রের পর্দায় তিনি তুলে ধরেছেন দেশভাগের যন্ত্রণা, মানুষের সংগ্রাম আর শিকড় হারানোর বেদনা। তিনি কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটক।
তার ১০১তম জন্মবর্ষে রাজশাহীর সেই স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটা আলোকিত হলো ১০১টি মোমবাতির আলোয়। মোমবাতি জ্বালিয়ে তাকে স্মরণ করলেন সংস্কৃতিকর্মী ও চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। একই সঙ্গে উঠল বসতভিটা সংরক্ষণ করে ঋত্বিক কুমার ঘটক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার দাবি।
আজ বুধবার বিকাল ৫টার দিকে নগরীর রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় অবস্থিত ঋত্বিক ঘটকের বসতভিটায় এ আয়োজন করা হয়।
ঋত্বিকের ১০১তম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন কমিটি আয়োজন করে এ কর্মসূচির। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর জ্বালানো হয় ১০১টি মোমবাতি। একে একে জ্বলে ওঠা আলোয় আলোকিত হয় তার স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটা। সেই আলোয় যেন ফিরে আসে চলচ্চিত্রকারের স্মৃতি। পরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
সভায় বক্তারা বলেছেন, ঋত্বিক ঘটক শুধু একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা নন, তিনি উপমহাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এক নাম। তার চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে মানুষের জীবন, সমাজ, দেশভাগ ও বিচ্ছেদের গভীর বেদনা। অথচ তার স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। এখানে একটি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হলে নতুন প্রজন্ম তার জীবন ও সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।
ঋত্বিক ১০১তম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন কমিটির সদস্যসচিব মো. আতিকুর রহমান বলেছেন, ‘ঋত্বিক ঘটক শুধু একজন চলচ্চিত্রকার নন, তিনি ইতিহাসের অংশ। তার স্মৃতি ও কাজ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই আমাদের এ আয়োজন।’
কমিটির আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন মাসুদ বলেছেন, ঋত্বিক ঘটক শুধু বাংলাদেশের নন, বিশ্ব জুড়েই পরিচিত একজন চলচ্চিত্রকার। তার স্মৃতি ধরে রাখতে বসতভিটাটি সংরক্ষণ করা জরুরি। এখানে ঋত্বিক কুমার ঘটক কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হলে মানুষ তার জীবন ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।
রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শিখা সরকার বলেছেন, ঋত্বিক ঘটক আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। তার স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন ও কর্ম তুলে ধরতে হবে। বসতভিটাটি সংরক্ষিত থাকলে মানুষ সেখানে এসে এ মহান চলচ্চিত্রকার সম্পর্কে জানতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম ফারুখ হোসাইন, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমিরুজ্জামান, রাজশাহী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জুয়েল কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা কালচারাল অফিসার ড. মো. ফারুকুর রহমান ফয়সল, চলচ্চিত্র নির্মাতা মুনতাসির আকিবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আহমদ থেসেন।
১০১টি মোমবাতি জ্বালিয়ে একদিনের জন্য আলোকিত করা হয়েছে ঋত্বিকের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি। কিন্তু বক্তাদের প্রত্যাশা, এ আলো যেন নিভে না যায়। বসতভিটাটি সংরক্ষিত হোক। গড়ে উঠুক ঋত্বিক কুমার ঘটক কমপ্লেক্স। তার জীবন, দর্শন ও চলচ্চিত্রের ইতিহাস ছড়িয়ে পড়ুক নতুন প্রজন্মের কাছে।



