চাকা মেরামতের সময় বাবা-ছেলে পিষ্ট, প্রাণ গেল ট্রাকচালকেরও

বাবা তাপস সরকার ও ছেলে তীব্র সরকার। সংগৃহীত ছবি
মাছের খাদ্য সরবরাহ দিতে মালিক নিজেই ট্রাক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে চাকা নষ্ট হলে মেরামতের কাজ করছিলেন মিস্ত্রি ও ছেলেকে নিয়ে। কিন্তু পেছন থেকে অপর একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে মৃত্যু হয় বাবা ও ছেলের। প্রাণ গেছে ট্রাকচালকেরও।
আজ রবিবার সকাল ৮টার দিকে নগরীর ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঢাকা-রংপুর প্রথম বাইপাস মহাসড়কের ওভারপাসের ওপর এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের তাপস সরকার (৪৮), তার ছেলে তীব্র সরকার (১৮) এবং দিনাজপুরের বিরামপুরের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন। তীব্র শেরপুরের একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ইঞ্জিন মিস্ত্রি আব্দুল মালেক। তিনি শহরের ঝোপগাড়ী দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা।
নিহতদের স্বজনরা জানান, তাপস ট্রাকের মালিক। চালককে শেরপুরে রেখে নিজেই গাড়ি চালিয়ে বগুড়া সদরের টেংরা বাজার এলাকায় যাচ্ছিলেন। ছিলিমপুরের ওভারপাসের ওপর পৌঁছালে ট্রাকের পেছনের চাকা পাংচার হয়ে যায়। ছেলে তীব্রকে বাড়ি থেকে চাকা নিয়ে আসতে বলেন তাপস। চাকা নিয়ে আসার পর বাবা-ছেলে ও মিস্ত্রি মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় পেছন থেকে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে বাবা-ছেলে দুজনেই পিষ্ট হয়। আহত হন মিস্ত্রি।
তাপসের শ্যালক শেরপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের নয়ন রায় বলেছেন, ‘আমি খবর পাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। প্রথমে আমার বোন জামাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। কিন্তু ভাগ্নেকে পাচ্ছিলাম না। ট্রাকে পিষ্ট হওয়ায় মরদেহগুলোর চেহারা বোঝা যাচ্ছিল না। দুই ঘণ্টা পর নিশ্চিত হই ভাগ্নের মৃত্যুর বিষয়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেছনের ট্রাকটি দিনাজপুরের বিরামপুরের এফ এম অ্যাগ্রো ফুডস লিমিটেডের। ওই ট্রাকের চালক আলমগীর ঢাকা থেকে সিমেন্ট বোঝাই করে বিরামপুরে কোম্পানিতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় মারা যান তিনিও।
দুর্ঘটনার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ হতাহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে।
কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ওসি হাফিজুর রহমানের ভাষ্য, সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আহত ব্যক্তি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।





