কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেট-প্রাচীর নির্মাণে অনিয়ম, তদন্তে মিলল সত্যতা

কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্মাণ করা হচ্ছে গেট ও প্রাচীর— সংগৃহীত
গাজীপুরের কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক (মেইন গেট) ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা মিলেছে তদন্তে। তিন সদস্যের মনিটরিং কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মাণকাজ অনুমোদিত নকশা ও কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়নি। বিশেষ করে সীমানা প্রাচীরের ভিত্তি নির্মাণে নির্ধারিত গভীরতা বজায় না রাখায় ভবিষ্যতে স্থাপনার স্থায়িত্ব নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় গণমাধ্যমে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও নির্মাণ অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশের পর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলামের নজরে আসে। অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর তার নির্দেশনায় তিন সদস্যের একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সভাপতি করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. জিসেলী ঘোষ মুনমুনকে। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান কালীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. মন্নুর আহমেদ। সদস্য হিসেবে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক এটিএম কামরুজ্জামান। গত ১৮ জুন কমিটি নির্মাণাধীন প্রকল্পটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
কমিটির সদস্য সচিব ও সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. মন্নুর আহমেদ বললেন, ‘আমাদের দায়িত্ব অনুযায়ী নির্মাণকাজের প্রতিটি বিষয় কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই করা হয়েছে। পরিদর্শনে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণকাজের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।’
কমিটির সভাপতি ডা. জিসেলী ঘোষ মুনমুন মন্তব্য করেন, ‘সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরেজমিন পরিদর্শন ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতেই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদ জানান, অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌরসভার প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘সীমানা প্রাচীরের প্রথম দফার কাজে গভীরতা কম ছিল। এরপর আমাদের নির্দেশনায় কাজটি পুনরায় সঠিকভাবে করা হচ্ছে। সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব বিষয় উঠে এসেছে, সেগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলামের ভাষ্য, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





