যমুনা সেতুতে ৭ কিলোমিটার যানজট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে অন্তত ৭ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাসে আটকে থাকা যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শুক্রবার (৫ জুন) ভোররাতে যমুনা সেতুর ওপর একাধিক যানবাহনের দুর্ঘটনা, কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়া এবং ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের অতিরিক্ত চাপের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যা এখনো রয়েছে বলে জানা গেছে।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ঈদের ছুটি শেষে তৈরি পোশাক কারখানার (গার্মেন্টস) শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ একযোগে কর্মস্থলে ফিরছেন, যার ফলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে।’
তিনি জানিয়েছেন, ভোররাতে যমুনা সেতুর ওপর ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে একটি বাস, প্রাইভেটকার ও ট্রাকের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত না হলেও দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো বিকল হয়ে পুরো লেনটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। একই সময়ে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে গার্মেন্টসকর্মীদের বহনকারী দূরপাল্লার একাধিক ত্রুটিপূর্ণ ও লক্কড়-ঝক্কড় বাস বিকল হয়ে যায়। ফলে উভয় লেনেই যান চলাচল ব্যাহত হয়ে দীর্ঘ যানজটের সূত্রপাত হয়।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বললেন, ‘যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে যানজট দেখা দিয়েছে। তবে যানজট নিরসনের জন্য মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।’
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে ৪৩ হাজার ৯০৯টি যানবাহন। একই সময়ে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫০ টাকা, যা ঈদ-পরবর্তী সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেতুতে টোল আদায়ের জন্য মোট ৯টি বুথ চালু রয়েছে।
তিনি আরও জানালেন, ‘যমুনা সেতুতে কয়েকটি যানবাহন বিকল ও অতিরিক্ত গাড়ির চাপে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর উভয় প্রান্তে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি চলমান।’





