জামালপুরে ৩ বছরে ৩৯৬ আত্মহত্যা!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জামালপুরে গত তিন বছরে আত্মহত্যা করেছেন ৩৯৬ জন। জেলা পুলিশের তথ্য বলছে, ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত উপজেলায় আত্মহত্যার এসব ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২২৬ জন পুরুষ ও ১৮০ জন নারী। সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে সরিষাবাড়ীতে ১০০টি।
গত আগস্টের তিনটি ঘটনাও সামনে এনেছে সম্পর্ক ও পারিবারিক সংকটের গভীরতা। জামালপুর সদর উপজেলার আশামনির জীবনে প্রেম এসেছিল, সেই সম্পর্ক গড়িয়েছিল বিয়েতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বামীকে ভিডিও কলে রেখেই তিনি আত্মহত্যা করেন। সরিষাবাড়ীর সাদিয়া সাবরিন বৃষ্টি পরিবারের অমতে বিয়ের দুই মাসের মাথায় আত্মহত্যা করেন। একই সময়ে দাম্পত্যের টানাপোড়েনে জামালপুর শহরের একটি ভাড়া বাসায় আত্মহত্যা করেন শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান রিমা।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যার ঘটনায় সরিষাবাড়ীর পর জামালপুর সদরে ৮৫, মাদারগঞ্জে ৫৬, মেলান্দহে ৪২, ইসলামপুরে ৪১, দেওয়ানগঞ্জে ৩৮ ও বকশীগঞ্জে ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেম ও দাম্পত্যের টানাপোড়েন, পারিবারিক অশান্তি, মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকট আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তরুণদের ক্ষেত্রে সম্পর্কের বিচ্ছেদ ও পারিবারিক বিরোধ যেমন ভূমিকা রাখছে, তেমনি বয়স্কদের মধ্যে ঋণ ও পারিবারিক চাপও বড় সংকট হয়ে উঠছে।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. শামীম ইফতেখার বলেন, ‘আত্মহত্যার চেষ্টা করা অনেক রোগীকে তারা মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে পান। তাদের সঙ্গে কথা বলে মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও পারিবারিক অশান্তির বিষয়টি প্রায়ই সামনে আসে। পরিবারকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক আলোচনা করা জরুরি।’
জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন জানান, আত্মহত্যা প্রতিরোধে পুলিশ নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। মসজিদের ইমামদেরও এ বিষয়ে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। পরিবার ও সমাজ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে আত্মহত্যার প্রবণতা কমানো সম্ভব।



