দিনাজপুরে হেতু ছাড়া সেতু

আলুক্ষেতের পাশ দিয়ে পুনর্ভবা নদীর ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ২৫০ মিটার দীর্ঘ সেতু। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ বুঝি এবার শেষ। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সাত বছরেও পূর্ণতা পায়নি নির্মাণকাজ। ফলে নদী পার হতে এখনো ভরসা ডিঙি নৌকা। ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে গিয়ে সম্প্রতি প্রাণও হারিয়েছেন এক কৃষক। দিনাজপুরের ঘুঘুডাঙ্গা-বসন্তপুর সেতু এখন এলাকাবাসীর স্বস্তির বদলে ক্ষোভ আর অনিশ্চয়তার প্রতীক।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন (৬০) প্রতিদিন ডিঙিতে পুনর্ভবা নদী পার হয়ে নিজের জমিতে যেতেন কৃষিকাজ করতে। গত রবিবার নদী পারাপারের সময় নৌকাডুবিতে মৃত্যু হয় তার। সংযোগ সড়ক থাকলে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের প্রয়োজন কমত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আফজালের মৃত্যুর ঘটনা আবারও সামনে এনেছে নদী পারাপারে স্থানীয় মানুষের ঝুঁকি ও দুর্ভোগের চিত্র। দিনাজপুর সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গা, বিরল উপজেলার বসন্তপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পুনর্ভবা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের। সেই দাবি পূরণে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), দিনাজপুর। চলতি বছরের জুলাইয়ে শেষ হয় সেতুটির নির্মাণকাজ। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সাত বছর পরও সেটি
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২২ কোটি ৫৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির উচ্চতা ১১ মিটার। সেতুটির নির্মাণকাজ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। তবে সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা না থাকায় এখনো চলাচলের উপযোগী হয়নি। দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কাটেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের বরাদ্দ না থাকার কথা বলা হচ্ছে এখন। ফলে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পরও সেতুর সুফল পাচ্ছেন না তারা। তাদের অভিযোগ, সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি শুরুতেই নিশ্চিত করা উচিত ছিল। সেতুটি চালু না হওয়ায় নদী পারাপারে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে এটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আকবার আলীর প্রশ্ন, ‘সেতু নির্মাণের উদ্দেশ্য যদি মানুষের যাতায়াত সহজ করা হয়, তাহলে সংযোগ সড়ক ছাড়া সেটি কতটা কাজে আসছে?’ প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমা কী ছিল, সংযোগ সড়কের কাজ কেন এখনো অসম্পূর্ণ এবং কবে নাগাদ পুরো সেতু চলাচলের উপযোগী হবে— এসব প্রশ্নের জবাব চান স্থানীয়রা।
এলজিইডির দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলী হোসেনের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়নি। এ কারণে সেতুর কাজ শেষ হলেও এটি চালু করা যাচ্ছে না। সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে। তবে কবে নাগাদ সেতুটি চালু করা সম্ভব হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলছিলেন, ‘চার-পাঁচবার সেতুটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি। এ সেতুর সংযোগ সড়ক ধরে প্রাক্কলন তৈরি করেনি। ফলে এলজিইডি কাজ শেষ করতে পারছে না।’
বিষয়টি সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কাজ চলছে উল্লেখ করে শিগগির অগ্রগতি হবে বলে আশা করছেন তিনি।



