ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কাঁচা ধান কাটতে হচ্ছে কৃষকদের

ছবি: আগামীর সময়
গত কয়েক দিনের ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করার ফলে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি ও খেদাইমারী গ্রামের ভিটেমাটি বিলীন হচ্ছে। এ ছাড়া বসতবাড়ির পাশাপাশি নদীগর্ভে চলে গেছে বিঘার পর বিঘা আবাদি জমি। ভাঙন এতটাই তীব্র রূপ ধারণ করেছে যে, কাঁচা ধান কাটতে হচ্ছে কৃষকদের।
ভাঙনে সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর মধ্যে সুখেরবাতি এলাকার দেলোয়ার, নজরুল ইসলাম, রুপচান, আয়শা খাতুন, ছোবহান এবং লালু শেখের বাড়ি।
অন্যদিকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ঘরবাড়ি হারানো বাসিন্দারা হলেন কপিল উদ্দিন, আফছার আলী, হাতেম, কদম আলী, আব্দুল খালেক, মহর উদ্দিন, সিরাজুল, জমসের আলী এবং আক্কাস আলী। বসতবাড়ির পাশাপাশি নদী ভাঙনের গ্রাসে নিঃস্ব হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ধারনা করা হচ্ছে এক বছরে এই এলাকার পাঁচ শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে গৃহহীন হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে ৬ থেকে ৭ মাস আগে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেললেও সঠিক তদারকি ও স্থায়ী ব্যবস্থার অভাবে সেগুলোও এখন নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে নদীর পাড় কোনো বাধা ছাড়াই ভেঙে পড়ছে।
চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপির সদস্য আনছার আলী তুহিন বলেন, ওই এলাকার প্রয়াত মহেজ মোল্লার ছেলে ইউনুছ মোল্লার নদীর তীরবর্তী দেড় বিঘা আমন ধানের জমির পুরোটাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া ছবুর প্রামাণিকের চার বিঘা জমির মধ্যে এক বিঘা আমন ক্ষেত নদীতে চলে গেছে।
তিনি আরো বলেন, হঠাৎ ভাঙন তীব্র হওয়ায় চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিঃস্ব পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে ও অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন।
ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ও স্থায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান এই ইউপি সদস্য।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শমশের আলী বলেছেন, আমার ওয়ার্ডের সোনাপুর ও চর গেন্দারআলগা গ্রামের বহ্মপুত্র নদের ভাঙনে আবাদি জমিসহ অনে হয়ে গেছে।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেছেন, বহ্মপুত্র নদের ভাঙনে আমার ওয়ার্ডের এই বছরে ৫০ থেকে ৬০টির মতো বাড়ি ভাঙছে। উপজেলায় ভাঙনের তালিকা দিলে একবার খালি ২০ কেজি করে চাল দিছে আর কোনোকিছু দেইনি।
ভাঙনের শিকার তোতা মিয়া বলেন, আমাগো বাড়িভিটাসহ কয়েক বিঘা জমি নদীতে গেছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে কেউ সহযোগিতা করে নাই।
চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এইচ এম সাইদুর রহমান বলেন, সুখেরবাতি, খেদাইমারী ও সোনাপুর ওয়ার্ড তিনটিতে নদী ভাঙন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছ। এখানে ব্লকের কাজ না করায় জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে যেসব জিও ব্যাগ ফেলানো হয়েছিল, তা নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে আবাদিজমি, গাছপালা ও বাড়িঘর ভেসে নিয়ে যাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জরুরি কাজের জন্য এখন কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।





