শ্রমিকের চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষায় সহায়তা করবে সরকার: শ্রমমন্ত্রী

সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: আগামীর সময়
অসুস্থ ও দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি শ্রমিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাব্যয় বহনেও সরকার সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারখানায় কার্যকর পরিদর্শন, নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শ্রম পরিদর্শকদের জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার সিলেটে আলাদা দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন মন্ত্রী।
সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৩৪তম পরিচালনা বোর্ড সভায় অসুস্থ ও দুর্ঘটনায় আহত-নিহত শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন শ্রমমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় শ্রমিকদের চিকিৎসা, সন্তানদের শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের দুর্দিনে সরকার পাশে থাকতে চায়। কঠিন রোগে আক্রান্ত রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমিকেরা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করে এ সহায়তা পেতে পারেন।’
আরিফুল হক জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের মাধ্যমে আবেদন করলে যাচাইপ্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হবে। আর্থিক সংকটের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের ফলাফল ও যোগ্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। উপযুক্ত শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যয় বহনেও সহযোগিতা করা হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন।
সিলেটের রোজ ভিউ হোটেলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) শ্রম পরিদর্শকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক প্রশিক্ষণে মন্ত্রী নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি জানান, কলকারখানায় কাঠামোগত, বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর পরিদর্শন জোরদার করতে হবে। অনেক কারখানায় অগ্নিনির্গমন পথের অভাব, বৈদ্যুতিক ত্রুটি এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহারে প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় শ্রমিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর রাখতে হবে।
পরিদর্শনের সময় কোনো কারখানায় লাইসেন্সের ঘাটতি বা নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের বিষয় নজরে এলে তা নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেছেন, ‘পরিদর্শকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া বা তাঁদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো কারখানা পরিদর্শনে বাধা কিংবা অসহযোগিতার শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’
দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়া কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করা হবে জানিয়ে তিনি বললেন, ‘পরিদর্শন কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বহীনতা বরদাশত করা হবে না। একজন দক্ষ শ্রমিকের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনশীলতার জন্যও বড় ক্ষতি।’
‘শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ বাস্তবায়নের উদ্যোগ জোরদার করার পাশাপাশি সময়োপযোগী শ্রম পরিদর্শন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে,’ যোগ করলেন তিনি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম।
শ্রম পরিদর্শকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ডিআইএফইর মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকী। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইএলও বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অফিসার ওলে জাস্টেনসেন এবং সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর। দুটি অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক, তাদের পরিবারের সদস্য এবং ডিআইএফইর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




