নিজ এলাকা ছাড়লেন রাষ্ট্রপতি, ঠাকুরগাঁও পেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নের ভিত্তি

দুপুর ২টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রাষ্ট্রপতি। ছবি: আগামীর সময়
গতকাল এসেছিলেন নিজের শিকড়ের টানে, আজ ফিরে গেলেন রাজধানীতে। সময়ের হিসাবে মাত্র এক রাত-দুই দিনের সফর। কিন্তু এই অল্প সময়েই ঠাকুরগাঁও দেখেছে আবেগের নানা মুহূর্ত, আর পেয়েছে দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশার দৃশ্যমান ভিত্তি। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই সফরের সবচেয়ে বড় স্মৃতি হয়ে থাকল ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।
সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহেশালী এলাকায় ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি। ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রায় ৮৬ একর জায়গায় গড়ে উঠতে যাওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছেন জেলার মানুষ।
মহেশালীর বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের কাছে এই দিনটি যেন দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসানের মুহূর্ত। তিনি বললেন, এই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে এটা তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। দীর্ঘদিন পর উচ্চশিক্ষার এমন একটি সুযোগ নিজেদের এলাকায় তৈরি হওয়ায় তিনি খুশি।
শুধু রশিদুল নন, জেলার অনেক অভিভাবকের কাছেও বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন স্বস্তির নাম। শিবগঞ্জের বাসিন্দা বিলকিস বেগম বললেন, সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য এখন আর দূরের শহরে পাঠানোর চিন্তা করতে হবে না। নিজেদের জেলাতেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হওয়ায় অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমবে।
রাষ্ট্রপতির এই সফরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি উঠে এসেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন ও নাগরিক প্রত্যাশার কথাও। নাগরিক সংবর্ধনায় জেলার উন্নয়নের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সফর ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
সফরের শেষ দিনে সকালে ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ সাংবাদিকদের তৃণমূল ও প্রান্তিক মানুষের কথা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময়ে সাংবাদিক নেতারা ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের ভবন সম্প্রসারণ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং সাংবাদিকদের জন্য ওয়েজবোর্ড কার্যকরের দাবি জানান। রাষ্ট্রপতি এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এরপর দুপুর ২টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রাষ্ট্রপতি। শেষ হয় তার দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর।
রাষ্ট্রপতি চলে গেলেন। শেষ হলো ব্যস্ততা, কমল নিরাপত্তার কড়াকড়ি, থেমে গেল আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে থেকে গেল একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর।





