আট বছরের অপেক্ষা শেষে চলার সঙ্গী পেল ছোট্ট হুজাইফা

আট বছর ধরে পৃথিবীটা ছিল চার দেয়ালের ভেতর। জানালার ফাঁক দিয়ে অন্য শিশুদের খেলতে দেখাই ছিল তার আনন্দ। জন্মের তিন মাস পর থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন হারিয়ে ফেলা ছোট্ট আব্দুল্লাহ আল হুজাইফার জীবনে এবার এলো নতুন আলো। একটি হুইলচেয়ার বদলে দিল তার মুখের হাসি, পরিবারের স্বস্তি আর আগামী দিনের আশা।
আজ শুক্রবার সামাজিক ও মানবিক সংগঠন 'রক্ত বন্ধন ফাউন্ডেশন' হুজাইফার বাড়িতে গিয়ে তার হাতে তুলে দেয় একটি নতুন হুইলচেয়ার।
শিশুদের পরিবার জানায়, জন্মের মাত্র তিন মাস পরই থেমে যায় তার স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা। অন্য শিশুদের মতো হামাগুড়ি দেওয়া, হাঁটা কিংবা দৌড়ে বেড়ানো- কোনোটাই আর সম্ভব হয়নি তার। সময় গড়িয়েছে। বয়স হয়েছে আট বছর। কিন্তু একটি হুইলচেয়ারের অভাবে ঘরের বাইরে বের হওয়ার সুযোগও ছিল খুবই কম।
রাজশাহী নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কেয়াডারা মধুরডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান ও রেশমা খাতুন দম্পতির একমাত্র সন্তান হুজাইফা। হুজাইফার বাবা একটি কোম্পানির ভ্যানচালক। অল্প আয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। তাই সন্তানের জন্য একটি হুইলচেয়ার কেনার সামর্থ্য কখনোই হয়নি। অনেক দরজায় কড়া নেড়েছেন তারা। বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া আর কোনো সহায়তা মেলেনি।
হুইলচেয়ারটি হাতে পেয়ে কথা হারিয়ে ফেলে ছোট্ট হুজাইফা। সে হয়তো অনুভূতির ভাষা বলতে পারেনি। কিন্তু তার মুখজুড়ে ছড়িয়ে পড়া হাসি আর উজ্জ্বল চোখের ঝিলিক যেন বলে দিচ্ছিল- আজ তার পৃথিবীটা একটু বড় হলো।
আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মা রেশমা খাতুন। তিনি বললেন, 'সংসারের খরচ চালাতেই কষ্ট হয়। তাই ছেলের জন্য হুইলচেয়ার কিনতে পারিনি। অনেক জায়গায় গিয়েছি, কিন্তু কোনো সাহায্য পাইনি। আজ এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।'
রক্ত বন্ধন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গোলাম মো. মোক্তাদীর রহমান বলেছেন, 'অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।'
এ সময় সংগঠনের ফিন্যান্স সেক্রেটারি তামান্না মুস্তারীসহ রক্ত বন্ধন ফাউন্ডেশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




