শিশুর কথাটি বিশ্বাস করলেই হয়তো বেঁচে ফিরত দুই সহোদর

আট বছরের শ্রাবণ সরকার আর ছয় বছরের সৌরভ সরকার, দুই সহোদর ভাই। জলাশয়ের পাশে খেলতে খেলতে তারা তলিয়ে যায় পানির গভীরে। পাশে থাকা আরেকটি শিশু দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে খবর দিলেও, শিশুর খেলার কথা ভেবে প্রথমে তা বিশ্বাস করতে পারেনি পরিবার।
বেলা গড়িয়ে দুপুর হওয়ার পর দুই সন্তানকে দেখতে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মা-বাবা। পরে জলাশয়ের পাড়ে গিয়ে ভাসমান অবস্থায় সৌরভকে দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। ততক্ষণে অন্য ছেলের কথা যেন ভুলেই গিয়েছিলেন। সৌরভকে দ্রুত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঠিক তখনই মনে পড়ে শ্রাবণের কথা। পুনরায় জলাশয়ে ছুটে গিয়ে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় তার নিথর দেহ।
বৃহস্পতিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পাচাল গ্রামে। ওয়ার্কশপ শ্রমিক বকুল সরকারের সাজানো সংসারে এখন শোকের মাতম। শ্রাবণ ও সৌরভ স্থানীয় শৈলজুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
জানা গেছে, সকালে জমির মধ্যে মাছের প্রাকৃতিক অভয়াশ্রমে পানির একটি পাত্র নিয়ে খেলতে গিয়ে বিপত্তি ঘটে। পাত্রটি পানিতে পড়ে গেলে সেটি তুলতে গিয়েই দুর্ঘটনার শিকার হয় দুই ভাই।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শায়েস্তাগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইরফান আহমেদ। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ঘটনার বিবরণে সবাই হতবাক। শিশুটির কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে হয়তো দুই সহোদরকে বাঁচানো সম্ভব হতো।
ওয়ার্কশপে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতেন বকুল সরকার। চোখের মণি দুই সন্তানকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি ও তার স্ত্রী।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।





