ঝুঁকিতে তিন নদীর বাঁধ, আতঙ্কে ফুলগাজী-পরশুরামের মানুষ

ফেনীতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তিন নদীর বাঁধ— সংগৃহীত
ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর বাঁধের অন্তত ২০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা পানির চাপ বাড়লে এসব পয়েন্ট ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ফলে বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকে নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
পরশুরামের চিথলীয়া ইউনিয়নের ধনিকুন্ডা এলাকার বাসিন্দা শ্যামল চন্দ্র দাসের বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মুহুরী নদী। নদীর বাঁধও তার বাড়ির একেবারে কাছে। তিনি বললেন, ‘চব্বিশ ও পঁচিশের দুই দফা বন্যায় আমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। গত বছর একটি ফাউন্ডেশন থেকে একটি ছোট ঘর পাই। বাড়ির পাশে বাঁধ সংস্কার হলেও বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। তাই বৃষ্টি এলে ভয়ে থাকি, কখন এই ঘরটিও ভেসে যায়।’
ফুলগাজীর দক্ষিণ দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ চৌধুরীর বাড়িও মুহুরী নদীর তীরবর্তী দক্ষিণ বরৈয়া এলাকায়। তিনি জানান, উত্তর দৌলতপুর নাপিতকোনা, উত্তর দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা, শালধর, দেরপাড়া ও উত্তর বরৈয়া বণিকপাড়াসহ অন্তত আট থেকে ১০টি পয়েন্টে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ।
পরশুরাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গাজী মাসুদ রানা মন্তব্য করেন, সিলোনীয়া নদীর মীর্জানগর অংশের একাধিক পয়েন্টে বাঁধের অবস্থা ভালো নয়। এসব এলাকার মানুষ বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকেন।
পরশুরামের চিথলীয়া ইউনিয়নের অলকা গ্রামের দুই ভাই মাসুম ও মাহফুজ গত বছরের আকস্মিক বন্যায় তাদের নতুন ঘর হারিয়েছেন। তাদের বাড়িও মুহুরী নদীর তীরে। তারা জানান, বাড়ির পাশের বাঁধ মেরামত করা হলেও নোয়াপুর পশ্চিমপাড়া আলতাফ আলী মসজিদের পশ্চিম পাশ থেকে নোয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা এখনো ঝুঁকিতে। এ ছাড়া পশ্চিম অলকার বাংলা হুজুরের বাড়ির পাশ থেকে জঙ্গলঘোনা ব্রিজের গোড়া পর্যন্ত বাঁধের অবস্থাও ভালো নয়।
ফুলগাজীর মুন্সীরহাট ইউনিয়নের কামাল্লা দারুল কোরআন মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আকবর হোসেন বলছেন, ‘আমাদের বাড়ির কাছে মুহুরী নদীর বাঁধের কয়েকটি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাই আকাশে মেঘ দেখলেই ভয়ে থাকি।’
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, গত দুই বছর ধরে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ধারাবাহিকভাবে মেরামত করা হচ্ছে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, ‘কিছু পয়েন্ট দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি থেমে গেলে এসব স্পট মেরামত করা হবে।’





