মণিপুরি ললিতকলা একাডেমি : ঐতিহ্য ও কারুকার্যের মেলবন্ধন

সবুজে ঘেরা ফসলের মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে আছে চারতলা একটি ভবন। বাইরে থেকে দেখলে আধুনিক স্থাপত্য, আবার নকশা ও কারুকার্যে ফুটে উঠেছে মণিপুরি সংস্কৃতির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের শিববাজারে অবস্থিত মণিপুরি ললিতকলা একাডেমি এখন মণিপুরি সংস্কৃতিচর্চা ও সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
একাডেমির নতুন ভবনের নকশায় রয়েছে মণিপুরি সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গের ছাপ। ভবনের ছাদ ও বিভিন্ন কারুকার্যে দেখা যায় মণিপুরি শাড়ির আঁচলের নকশার প্রভাব। ভবনের রঙ ও নকশার সঙ্গে রয়েছে আশপাশের সবুজ প্রকৃতিরও সামঞ্জস্য। একাডেমি প্রাঙ্গণে রয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ ও অডিটরিয়াম। এসব স্থানে নিয়মিত চর্চা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্য ও সংগীতের।
একাডেমিতে রয়েছে মণিপুরি সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, পোশাক, অলংকার ও জীবনযাপনের নানা উপকরণ সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা। ফানেক ও এনাফির মতো ঐতিহ্যবাহী পোশাকও দেখা যায় এখানে। রয়েছে আর্ট গ্যালারি ও জাদুঘর কক্ষ।
চারতলা ভবনটিতে রয়েছে পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ, একটি প্রশিক্ষক কক্ষ, তিনটি প্রশাসনিক কক্ষ, একটি জাদুঘর কক্ষ, একটি আর্ট গ্যালারি, একটি কনফারেন্স কক্ষ, দুটি রিহার্সেল কক্ষ, একটি রেকর্ডিং কক্ষ ও একটি পাঠাগার। এ ছাড়া রয়েছে অতিথিশালা ও ডরমিটরি। একাডেমি প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চ ও অডিটরিয়াম স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মণিপুরি নৃত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও করছে প্রতিষ্ঠানটি। এখানে দেওয়া হয় মণিপুরি ভাষা, নৃত্য, সংগীত ও হস্তশিল্প বিষয়ে প্রশিক্ষণ। বিশেষ করে মণিপুরি নৃত্যের ধ্রুপদী ধারাটি নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়ার আয়োজন করা হয়।
একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র সিংহ বললেন, ‘মণিপুরি ললিতকলা একাডেমি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি আমাদের কৃষ্টি, ঐতিহ্য এবং জাতিগত পরিচয়ের এক অনন্য ধারক।’ তিনি বলেছেন, একাডেমিতে মণিপুরি সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান সংরক্ষণ, গবেষণা ও চর্চার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার কাজ করা হচ্ছে।
একাডেমির নবনিযুক্ত পরিচালক রামকান্ত সিংহ বলেছেন, কমলগঞ্জের এই জনপদ সংস্কৃতিচর্চার জন্য উর্বর। মণিপুরি সম্প্রদায়ের ধ্রুপদী নৃত্য, সংগীত ও কারুশিল্প দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
রামকান্ত সিংহ বললেন, ‘মণিপুরি ললিতকলা একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে এই সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, চর্চা ও প্রসারে
কাজ করছে। আমাদের মূল লক্ষ্য, প্রান্তিক পর্যায়ের শিল্পীদের মূল্যায়ন করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের শিকড়ের পরিচয় তুলে ধরা।’





