কান্তজীউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

কাহারোল উপজেলার শ্রীশ্রী রুক্মিণী কান্তজীউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদ পরিদর্শন করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তনগরে অবস্থিত ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী রুক্মিণী কান্তজীউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেন। প্রথমে কান্তজীউ মন্দিরে গিয়ে এর প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী, টেরাকোটার কারুকাজ ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন ঘুরে দেখেন। পরে মন্দিরের পাশে অবস্থিত নয়াবাদ মসজিদ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে কান্তজীউ মন্দিরের স্থাপত্য ও কারুকাজ দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। পরে নয়াবাদ মসজিদের দেয়ালে পোড়ামাটির ফলকে ফুটিয়ে তোলা প্রাচীন কারুকাজ ঘুরে দেখেন এবং এর ইতিহাস ও স্থাপত্য সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানেন।
পরিদর্শন শেষে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, ‘এই মন্দির অনেক সুন্দর। খুব ভালো লাগছে। আজকে আমি মন্দিরের পাশেই নয়াবাদ মসজিদও দেখলাম। অনেক আগের বানানো মসজিদ, পোড়ামাটির ফলক দিয়ে সাজানো। দেয়ালে সুন্দর কারুকাজ আছে। আমার মনে থাকবে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এসব স্থাপনার সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মনজুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার নির্বাচনী এলাকায় আসায় তিনি গর্বিত। কান্তজীউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদ এলাকার গর্ব এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অংশ।
তিনি আরও জানান, দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন করলে এলাকার ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনা আরও মানুষের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দিনাজপুর ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ। কান্তজীউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদের মতো স্থাপনা সংরক্ষণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব স্থাপনা দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগ্রহ রয়েছে।
কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোখলেদা আক্তার জানিয়েছেন, কান্তজীউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদ কাহারোলের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা এসব স্থাপনা দেখতে আসেন। ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
কাহারোল সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশতিয়াক আহমেদ জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে সহকারী পুলিশ সুপার (কাহারোল সার্কেল) মো. মনিরুজ্জামান, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।







