নগরবাসীর পরামর্শে রাজশাহীকে নতুন করে সাজাতে চাই: রাসিক প্রশাসক

নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা সেবা বিষয়ক কর্মশালায় কথা বলছেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন
রাজশাহীকে আরও আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এ জন্য নগরবাসীর পরামর্শ নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
নগরীর পরিবেশ সংরক্ষণ, পুকুর ও জলাধার রক্ষা, পার্ক ও খেলার মাঠের উন্নয়ন, সবুজায়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার নগর ভবনের সরিৎ দত্ত গুপ্ত নগর সভাকক্ষে জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেডের ‘লিভেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ সিটিজ ফর অল’ (এলআইসিএ) প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা সেবা বিষয়ক কর্মশালায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শুরুতে তিনি কর্মশালার উদ্বোধন করেন।
মাহফুজুর রহমান রিটন বললেন, ‘নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে সিটি করপোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। রাজশাহীকে নতুনভাবে সাজাতে নগরবাসীর মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
তিনি বলেছেন, ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও জিআইজেড দীর্ঘদিন ধরে যৌথভাবে কাজ করছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরীর উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে জিআইজেডকে নতুন প্রকল্প গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তালাইমারী শহীদ মিনারসংলগ্ন এলাকায় একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় এলাকাটিকে দৃষ্টিনন্দন করে সাজানোর উদ্যোগ রয়েছে। এতে নগরীর সৌন্দর্য বাড়ার পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য মনোরম পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রশাসক আরও বললেন, ‘এ ধরনের কর্মশালা থেকে নতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। এসব অভিজ্ঞতা নগর উন্নয়নের কাজে লাগানো সম্ভব।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় এলআইসিএ প্রকল্পের আরবান ফরেস্ট্রি অ্যান্ড নার্সারি অ্যাডভাইজার পঞ্চানন কুমার ঢালী, প্রজেক্ট কম্পোনেন্ট ম্যানেজার বিপাশা দত্ত এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্পেশালিস্ট হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার মোজাফফর মাহমুদ।
এ সময় রাসিকের সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন পরাগ, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ-সাঈদ, বাজেট কাম হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম, সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন ইউনিটের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন আরজু এবং রাজস্ব কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন খোকন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া রাজশাহী ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সিডিসির নেতারাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কর্মশালায় অংশ নেন।
কর্মশালায় রাজশাহী নগরীর পরিবেশ সংরক্ষণ, পুকুর ও জলাধার রক্ষা, পার্ক ও খেলার মাঠের উন্নয়ন, সবুজায়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।




