জীবননগরে প্রথম সাম্মাম চাষে নতুন সম্ভাবনা

জীবননগরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বিদেশি ফল সাম্মাম। ছবি: আগামীর সময়
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বিদেশি ফল সাম্মাম বা রক মেলন। দেখতে অনেকটা বাঙ্গির মতো হলেও স্বাদ, গন্ধ ও রঙে ভিন্ন এ ফল চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন উপজেলার পাতিলা গ্রামের কৃষক জসীমউদ্দীন। দেড় বিঘা জমিতে সাম্মাম চাষ করে এরই মধ্যে ফল বিক্রি শুরু করেছেন তিনি।
প্রতিটি সাম্মামের ওজন প্রায় তিন থেকে চার কেজি। বর্তমানে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন জসীমউদ্দীন। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে দেড় বিঘা জমি থেকে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার সাম্মাম বিক্রির আশা করছেন তিনি। এ আবাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা।
কৃষক জসীমউদ্দীন জানিয়েছেন, ইউটিউবে সাম্মাম চাষের ভিডিও দেখে এ ফল চাষে আগ্রহী হন। পরে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন। এবারই প্রথম দেড় বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে সাম্মামের আবাদ করেছেন।
তিনি আরও জানালেন, ফলন ভালো হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ১০০ টাকা দরে ফল বিক্রি করছেন। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি অনলাইনেও অর্ডার পাচ্ছেন। অর্ডারের ভিত্তিতে কুরিয়ারযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্মাম পাঠানো হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, জমিতে সারি সারি গাছে ঝুলছে বড় বড় সাম্মাম। সবুজ ও হলুদাভ রঙের ফলগুলো দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। নতুন ধরনের এ ফল দেখতে প্রতিদিনই কৃষকের জমিতে ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ। কেউ ফলের ছবি তুলছেন, আবার কেউ স্বাদ পছন্দ হওয়ায় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে।
জীবননগরের এক দর্শনার্থী জানিয়েছেন, এ এলাকায় প্রথমবার সাম্মাম দেখেছেন তিনি। ফলটি খেতে মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় তার ভালো লেগেছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, সাম্মাম বা রক মেলন মেলনজাতীয় একটি ফল। জীবননগরে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষের বিষয়টি কৃষি বিভাগ পর্যবেক্ষণ করছে। ফলন ও বাজারজাতকরণ সফল হলে ভবিষ্যতে কৃষকদের মধ্যে নতুন ধরনের এ ফসল চাষে আগ্রহ বাড়তে পারে।




