ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা সেই শিশুর কোলে এলো সন্তান, ডিএনএ সংগ্রহ

নেত্রকোনার মদনে শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ১১ বছরের শিশুটি জন্ম দিয়েছে একটি মেয়েসন্তান। ধর্ষণ মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে সংগ্রহ করা হয়েছে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা। আজ শুক্রবার দুপুরে এসব নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান।
তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানেই গত ২ জুলাই সে সন্তান জন্ম দেয়। ঢাকা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডির ল্যাব পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর গত মঙ্গলবার সেফ হোমে গিয়ে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করেন।
মদনের কাইটাইল ইউনিয়নে নানির বাড়িতে থাকত মেয়েটি। এলাকার মাদ্রাসায় পড়ত সে। একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর— উঠেছিল এমন অভিযোগ । শারীরিক পরিবর্তন আসার পর বিষয়টি টের পায় শিশুর পরিবার।
গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, ১১ বছর বয়সী শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। একমাত্র আসামি করেন হজরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহকে।
গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তিন দিনের রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান জানালেন, ‘নবজাতকের নমুনা পরীক্ষার জন্য সিআইডির পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নমুনাও আগে সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।’
অভিযুক্ত আমান উল্লাহ এখন কারাগারে। নেত্রকোনা আদালতের পরিদর্শক মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ জানালেন, মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৪ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।








