এমএসএফের প্রতিবেদন
জুলাইয়ে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ৩২ শতাংশ
- মাদক, অনলাইন জুয়া ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি নিয়ে সতর্কবার্তা

লোগো
দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সামান্য কমলেও সহিংসতার ধরন আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জুলাই মাসে ধর্ষণ, আত্মহত্যা ও নবজাতক পরিত্যাগের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। একই সঙ্গে মাদক, অনলাইন জুয়া এবং অপরাধের বিচারহীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এমএসএফের জুলাই মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা ছিল ৩২০টি। জুলাই মাসে তা কিছুটা কমে ৩০৬টিতে দাঁড়ালেও অপরাধের ভয়াবহতা বেড়েছে। সংস্থাটির মতে, সহিংসতার সংখ্যা কমলেও এর ধরন ও তীব্রতা আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে ৯০টিতে পৌঁছেছে, যা আগের মাসে ছিল ৬৮টি। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। একই সময়ে আত্মহত্যার ঘটনা ১৭ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮টিতে। এমএসএফ বলছে, নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা এবং মানসিক চাপের বিষয়গুলো এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১১ নবজাতক বা শিশুকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজনই মারা গেছে। এমএসএফ এ ঘটনাগুলোকে শিশু অধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়ীদের শনাক্ত বা আইনের আওতায় আনা না যাওয়ায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
মাদক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগ জুনের ১৩টি থেকে বেড়ে জুলাইয়ে ১৪টিতে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে এসংক্রান্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৩৪ থেকে বেড়ে ৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে মাদক কারবারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এমএসএফ বলছে, এসব অভিযোগ সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
অন্যদিকে প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে অনলাইন জুয়ার বিস্তার নতুন সামাজিক সংকটে পরিণত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। জুন মাসে অনলাইন জুয়া-সংক্রান্ত কোনো গ্রেপ্তার না থাকলেও জুলাইয়ে এ ধরনের অপরাধে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনলাইন জুয়ার বিস্তারকে বহুমাত্রিক সামাজিক ও মানবাধিকার সংকট হিসেবে দেখছে এমএসএফ।
প্রতিবেদনের উপসংহারে এমএসএফ বলেছে, কেবল অপরাধের মোট সংখ্যা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়। বরং অপরাধের ধরন, নির্মমতা এবং ভুক্তভোগীদের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দ্রুত বিচার, মাদক ও অনলাইন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।




