৫৫ বছরেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি শহীদ বুদ্ধিজীবী খাদেম মতিয়র রহমান

সংগৃহীত ছবি
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় পালিত হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী খাদেম মতিয়র রহমানের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাকে পীরগঞ্জ শহর থেকে ধরে নিয়ে পাশের রাণীশংকৈল উপজেলার খুনিয়াদিঘি বধ্যভূমিতে করা হয় হত্যা। তবে দীর্ঘ ৫৫ বছরেও শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্য, খাদেম মতিয়র রহমান ১৯১০ সালে পীরগঞ্জ উপজেলার ভেলাতৈড় (ভদ্রপাড়া) গ্রামে করেন জন্মগ্রহণ। পিতার নাম মসলেউদ্দিন। রাণীশংকৈল রামগঞ্জ হাই স্কুল থেকে করেন এন্ট্রান্স (এসএসসি) পাস। পরবর্তীতে তিনি দায়িত্ব পালন করেন সমাজসেবক, পঞ্চায়েত, প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যানের। পেশাগতভাবে হোমিও চিকিৎসক হলেও সমাজ সংস্কার এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে করেন সহায়তা। এ বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি সেনারা তাকে পীরগঞ্জ থেকে ধরে নিয়ে রাণীশংকৈলের খুনিয়াদিঘি বধ্যভূমিতে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ও ব্রাশফায়ারে করে হত্যা।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও তার নাম শহীদ বুদ্ধিজীবীর গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও শহীদের সন্তান মেহের এলাহী বলছিলেন, আমার বাবা প্রকৃত শহীদ বুদ্ধিজীবী। অনেকের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেও তার নাম নেই, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
পীরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান বলেছেন, মতিয়র রহমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তার নাম শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায় থাকার কথা ছিল। নানা কারণে হয়নি। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার জানান, শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে স্বীকৃতির জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।






