মাতারবাড়ীতে হবে তিন এলএনজি টার্মিনাল

কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া, ছবি: আগামীর সময়
দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে একটি এবং মাতারবাড়ীতে আরও দুটি ল্যান্ডবেইজ এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করবে সরকার। আগামী দুই বছরের মধ্যে এসব টার্মিনালের কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া।
আজ রবিবার দুপুরে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে মুখ্যসচিব সকালে নৌপথে মহেশখালী পৌঁছান। পরে তিনি মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) আওতাধীন মাতারবাড়ীতে নির্মাণাধীন গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ধলঘাটা-মাতারবাড়ী-রাজঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বর্তমান অবস্থা ও বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সরেজমিনে দেখেন।
মুখ্যসচিব বলেছেন, মাতারবাড়ীতে বাস্তবায়িত ও চলমান বৃহৎ প্রকল্পগুলোর সুফল স্থানীয় জনগণের কাছেও পৌঁছে দিতে হবে। বিভিন্ন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি উপযুক্ত ব্যক্তিদের চাকরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
তার ভাষ্য, ‘বর্তমান সরকারের আমলে মাতারবাড়ীতে আরও উন্নয়ন প্রকল্প হবে। গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ শেষ হলে দেশের আমূল পরিবর্তন আসবে।’
মুখ্যসচিব আরও বলেন, বিগত সরকারের ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতির’ কারণে এসব প্রকল্প কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোয়নি। বর্তমান সরকার দ্রুত প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেছেন, মাতারবাড়ীর বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও অবকাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এর সুফল স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছাতে তাদের উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করা জরুরি।
তার দাবি, ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যথাযথ পুনর্বাসন এবং প্রকল্পে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। যোগ্যতা অনুযায়ী স্থানীয় দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলে এলাকার মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।
মতবিনিময়কালে প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ, উন্নয়নের সুফল বণ্টন, কর্মসংস্থান ও এলাকার আর্থসামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।
মুখ্যসচিব বলেন, ‘মাতারবাড়ীতে যেসব বৃহৎ প্রকল্প গড়ে উঠছে, সেগুলোর সুফল যেন শুধু প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং স্থানীয় জনগণও যেন সরাসরি উপকৃত হন, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেছেন, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্পের পরিচালক এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




