কুড়িগ্রামে খুরা রোগে ৯ গরুর মৃত্যু, আক্রান্ত আড়াই শতাধিক

সংগৃহীত ছবি
কুড়িগ্রামে গবাদি পশুর মধ্যে খুরা রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সদর, রাজারহাট এবং ভূরুঙ্গামারী ২০০ থেকে ২৫০ গরু আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এ রোগে এরই মধ্যে অন্তত ৯টি গরুর মৃত্যু হয়েছে।
কোরবানির ঈদের আগে এ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় খামারি ও গবাদি পশুর মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগ চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করলেও ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের হরিশ্বর জোৎগোবরধন এলাকায় গত এক সপ্তাহে একটি গর্ভবতী গাভীসহ দুটি গরু মারা গেছে। একই এলাকায় আরও ২০-২৫টি গরু আক্রান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন, তার একটি ফ্রিজিয়ান গাভী চিকিৎসা করানোর পরও মারা গেছে। তার ভাষ্য, এতে তার দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আরেক খামারি আবু হোসেন বললেন, ঈদের সময় গরু বিক্রি করে সংসার চালানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন গরু অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিক্রি তো দূরের কথা, বাঁচবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ক্ষুদ্র খামারি একরামুল হকের খামারের তিনটি গরু আক্রান্ত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, একটি দুগ্ধবতী গাভীর জিহ্বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুধ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় পল্লী প্রাণী চিকিৎসক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, জেলায় রোগের সংক্রমণ ব্যাপক হলেও অনেক গরু চিকিৎসায় সেরে উঠছে। তার মতে, সময়মতো ভ্যাকসিন না দেওয়া এবং ভ্যাকসিনের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক খামারি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন না, ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, তিনটি উপজেলায় সংক্রমণ বেশি হলেও অন্যান্য এলাকাতেও রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি গরু আক্রান্ত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান।




