শরীয়তপুরে আশ্রয়ণের শত ঘরের ৯০টিই খালি
- চুরি হচ্ছে দরজা-জানালা

ছবি: আগামীর সময়
পদ্মা নদীর মাঝের বিস্তীর্ণ চরে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে ১০০টি ঘর। ওপর থেকে দেখলে মনে হয় ইংরেজি অঙ্ক ‘১০০’। ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিতে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে নির্মিত হয়েছিল এসব ঘর। তবে কয়েক বছর যেতে না যেতেই প্রকল্পটির ৯০ শতাংশ ঘরই এখন ফাঁকা। জনমানবহীন এসব ঘর থেকে চুরি হচ্ছে দরজা-জানালা, টিনের চাল, বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সরঞ্জাম।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা ইউনিয়নের খাসবাজার এলাকায় এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের অবস্থান। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১০০টি ঘরের মধ্যে মাত্র ১০টিতে লোকজন বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে মূল বরাদ্দ পাওয়া পরিবার মাত্র তিনটি। বাকি সাতটি ঘরে থাকছেন অন্য জেলা থেকে আসা দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ একর খাসজমি ভরাট করে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ বাস্তবায়ন করা হয়। ১০০টি পরিবারের জন্য নির্মিত প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ, বারান্দা ও টয়লেট রয়েছে। দেওয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রতি ১০ পরিবারের জন্য রাখা হয় একটি গভীর নলকূপ। প্রতিটি পরিবারকে দুই শতাংশ জমিসহ ঘর দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রকল্পে যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই। উপজেলা সদর থেকে ট্রলারে করে চরে যেতে হয়। বর্ষায় যোগাযোগ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত। এসব কারণে বরাদ্দ পাওয়া অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে নিজেদের পুরনো বাড়িতে চলে গেছে।
প্রকল্পে বসবাসকারী কয়েকজন নারী বলেছেন, মানুষ না থাকায় ফাঁকা ঘরগুলোয় প্রায়ই চুরি হচ্ছে। দরজা, টিউবওয়েলের অংশসহ বিভিন্ন মালামাল খুলে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। তাদের ভাষ্য, ১০০টি ঘরের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার এখানে থাকে।
চরআত্রা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সামছুদ্দিন ব্যাপারী বলেছেন, দীর্ঘদিন ঘরগুলো ফাঁকা পড়ে থাকায় প্রকল্প জুড়ে অনেকটা ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ ঘরের টিনের চাল, দরজা-জানালা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। গভীর নলকূপের ওপরের অংশও খুলে নিয়ে গেছে চোরেরা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেছেন, বরাদ্দপ্রাপ্তরা কেন প্রকল্পে থাকছেন না এবং মালামাল চুরির বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘরগুলো আবার সচল করা ও নিরাপত্তার বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



