উপকূলবাসীর সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল আজ

ছবি: আগামীর সময়
২৯ এপ্রিল। উপকূলবাসীর কাছে এক ভয়াল দিন আজ। ১৯৯১ সালের এই দিনে স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ভোলাসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকায় চালায় ধ্বংসযজ্ঞ। রাতের অন্ধকারে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপকূলীয় এলাকা। জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গিয়েছিল অনেক এলাকা। কেবল সরকারি হিসাবে এই ঝড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জনের মৃত্যুর কথা জানা যায়। চিরতরে ঘরবাড়ি হারা হয় হাজারো মানুষ।
সেই দিনে আবারও দুর্যোগ। উপকূলীয় ভোলা জেলাসহ বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ঝড়বৃষ্টি। আজ বুধবারও বিরাজ করছে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া।
সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে সমুদ্রবন্দরগুলোকে। উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও আশঙ্কা রয়েছে বজ্রবৃষ্টির। নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে ফসলের ক্ষতির।
এ পরিস্থিতিতে ভোলার সমুদ্র ও নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা এবং বন্ধ রাখা হয়েছে যাত্রীবাহী লঞ্চ। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে।
ভোলা আবহাওয়ার অধিদপ্তরের সিনিয়র অবজারভার মো. মাহাবুব বলেছেন, বুধবার ভোলায় ১২৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভোলা জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় উপকূলবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার বেগের বাতাস ও প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে মৃত্যু হয় ভোলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় এলাকায় ১ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষের। অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে স্বজন, ভিটামাটি ও সম্পদ হারিয়ে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর এটিকে স্মরণ করা হয় দ্বিতীয় ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে।



