কুয়াকাটার ৬৫ জেলে পরিবার পাচ্ছে নতুন ঘর

অরকা পল্লীর ৬৫টি জেলে পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর। ছবি; আগামীর সময়
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের অরকা পল্লীর ৬৫টি জেলে পরিবার পাচ্ছে নতুন ঘর। দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করা এসব পরিবার নতুন ঘর পেয়ে আনন্দিত। প্রতিটি ঘরের সঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছে একটি করে স্যানিটারি টয়লেট।
সোওয়াব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। তিন মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় নির্মাণকাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরইমধ্যে অধিকাংশ পরিবারের কাছে নতুন ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরগুলো উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছে ফাউন্ডেশন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৮ সালে গৃহহীন ৮০টি জেলে পরিবারকে নতুন ঘর দিয়ে পুনর্বাসন করে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ওল্ড রাজশাহী ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন (অরকা)’। ওই সময় থেকেই পল্লীটির নাম হয় ‘অরকা পল্লী’। এরপর দীর্ঘ ১৯ বছরে ঘরগুলোর সংস্কার না হওয়ায় সেগুলো ধীরে ধীরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। এতে পরিবারগুলোকে নানা দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছিল।
পল্লীর বাসিন্দাদের এই দুর্দশার বিষয়টি সোওয়াব ফাউন্ডেশনের পটুয়াখালী জেলার ভলান্টিয়ার মো. জাহিদুল ইসলামের নজরে আসে। তিনি বিষয়টি ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার মো. লোকমান হোসাইন তালুকদারকে জানান। পরে ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিনিধি দল অরকা পল্লী সরেজমিনে পরিদর্শন করে। যাচাই-বাছাই শেষে বর্তমানে বসবাসরত ৬৫টি পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পল্লীর বাসিন্দা মরিয়ম বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে কষ্টে বসবাস করতে হয়েছে। বৃষ্টি ও বন্যার সময় ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ত। ছোট সন্তানদের নিয়ে সেখানে থাকা খুবই কষ্টকর ছিল। নতুন ঘর পেয়ে তারা আনন্দিত।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম জানায়, নতুন ঘরে পড়াশোনার ভালো পরিবেশ তৈরি হবে। আগের ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। নতুন ঘর পেয়ে সে খুব খুশি।
অরকা পল্লী সমিতির সভাপতি জেলে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, সোওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতে ঘুমাতেও দুশ্চিন্তা হতো। এখন স্যানিটারি টয়লেটসহ মানসম্মত ঘর পেয়ে সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়েছে।
সোওয়াব ফাউন্ডেশনের পটুয়াখালী জেলার ভলান্টিয়ার মো. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে অরকা পল্লীর মানুষের দুর্দশার খবর পেয়ে তিনি পল্লীটি পরিদর্শন করেন। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করে ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে পাঠান। এরপর প্রতিনিধিদল সরেজমিনে পরিদর্শন করে ৬৫টি পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি আরও জানান, ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অধিকাংশ পরিবারকে এরই মধ্যে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিগগির বাকি পরিবারগুলোকেও নতুন ঘরে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হবে।
সোওয়াব ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার মো. লোকমান হোসাইন তালুকদার জানিয়েছেন, স্থানীয় ভলান্টিয়ারের মাধ্যমে অরকা পল্লীর মানুষের দুর্দশার কথা জানতে পারেন তারা। পরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ৬৫টি পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি জানান, প্রতিটি ঘরের আয়তন ১৮ ফুট × ১৪ ফুট। ঘরগুলো মাটি থেকে প্রায় ৩ ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের সঙ্গে একটি করে স্যানিটারি টয়লেটও রাখা হয়েছে। অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে পেরে তারা আনন্দিত। চলতি মাসের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরগুলো উদ্বোধন করা হবে। ভবিষ্যতেও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে সোওয়াব ফাউন্ডেশন কাজ করে যাবে।




