ইউএনওর উদ্যোগে নতুন ঘর পাচ্ছেন অসহায় বৃদ্ধা ফিরোজা

ফিরোজার নতুন ঘরের নির্মাণ কাজ চলছে। ছবি : আগামীর সময়
মরিচা ধরা টিনের চাল, বাঁকা হয়ে পড়া জরাজীর্ণ ঘর, ভাঙা বেড়া আর বৃষ্টি হলেই টপটপ করে ঘরের ভেতরে পানি পড়ত। ঝড়ো বাতাস উঠলেই বুক কেঁপে উঠত, এই বুঝি মাথার ওপরের একমাত্র ছাদটুকু ভেঙে পড়ল। এমন একটি জীর্ণ ঝুপড়ি ঘরেই বছরের পর বছর জীবনের সঙ্গে লড়াই করে এসেছেন নান্দাইলের অসহায় বৃদ্ধা ফিরোজা (৬১)। দীর্ঘদিনের সেই দুর্বিষহ জীবনের অবসান ঘটতে চলেছে। এবার তার ভাগ্যে জুটছে একটি নতুন ঠিকানা। শেষ বয়সে অন্তত নিরাপদে মাথা গোঁজার স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের উদ্যোগে সমাজকল্যাণ পরিষদের মাধ্যমে ফিরোজা পাচ্ছেন নতুন ঘর। বর্তমানে ঘরটির নির্মাণকাজ চলছে।
ফিরোজা নান্দাইল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দশালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামী সরুজ আলীর মৃত্যু হয়। এরপর একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়ে মাত্র এক শতক জমির ওপর নির্মিত জরাজীর্ণ একটি ঘরেই বসবাস করছিলেন তিনি। বয়সের ভারে কর্মক্ষমতা হারানোর পর মানুষের সহায়তা ও ভিক্ষাবৃত্তিই হয়ে ওঠে তার জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মরিচা ধরা টিনের চাল, ছেঁড়া বেড়া ও বাঁকা হয়ে পড়া ঘরটিতে বৃষ্টি হলেই পানি পড়ত। ঝড়ো বাতাসে পুরো ঘর কেঁপে উঠত। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই বছরের পর বছর বসবাস করলেও তার দুর্দশার বিষয়টি সেভাবে কারও নজরে আসেনি।
সম্প্রতি স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাতের নজরে আসে। পরে তিনি নিজে ফিরোজার বাড়িতে গিয়ে বাস্তব চিত্র পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
চোখে আনন্দের অশ্রু নিয়ে ফিরোজা বলেছেন, ‘আমি কোনোদিন ভাবিনি জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে নতুন ঘরে থাকতে পারব। এত দিন বৃষ্টি হলেই সারা রাত ঘুমাতে পারতাম না। ঘরের ভেতরে পানি পড়ে সব ভিজে যেত। ঝড়-বৃষ্টি এলেই খুব ভয় লাগত। এখন মনে হচ্ছে আল্লাহ আমার দিকে তাকিয়েছেন। যারা আমার জন্য এই ঘরের ব্যবস্থা করে দিছে, আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে তাদের জন্য দোয়া করব। আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন। নতুন ঘরে শান্তিতে শেষ জীবনটা কাটাতে চাই।’
স্থানীয় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ অনিক বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর ফিরোজা অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছিলেন। তার জন্য একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, ‘ফিরোজার বিষয়টি জানার পর আমি তার বাড়িতে গিয়ে বাস্তব অবস্থা দেখি। পরে বিষয়টি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী স্যারকে অবহিত করি। তার নির্দেশনায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ পরিষদের সহায়তায় একটি নতুন ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘ফিরোজার মেয়ে শামসুন্নাহারও একজন বিধবা। চার সন্তান নিয়ে তিনি অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তাই তার জন্যও একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তিনি স্বাবলম্বীভাবে পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।’





