প্রান্তিক বাজেট ২০২৬-২৭ ভাবনা
আমাদের কথাও যেন মাথায় থাকে

প্রতি বছর জাতীয় বাজেট ঘোষণার সময় উন্নয়ন, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে শোনা যায় নতুন প্রতিশ্রুতির কথা। কিন্তু দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত চা-শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের অনেকের কাছে এসব আলোচনা যেন দূরের কোনো বিষয়। তাদের অভিযোগ, বাজেটের হিসাব বড় হলেও এর প্রতিফলন দেখা যায় না।
ভোর হওয়ার আগেই কাজে বের হতে হয় চা শ্রমিকদের। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চা পাতা সংগ্রহের কাজ করলেও আয় খুব সীমিত। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার জেরিন চা বাগানের শ্রমিক অনু ছত্রীর ভাষায়, ‘বাজেট কী, সেখানে আমাদের জন্য কী থাকে— এসব আমরা বুঝি না খুব একটা। বাজেট হয় শুধু শুনি। কিন্তু আমাদের জীবনে তো আসে না কোনো পরিবর্তন।’
‘চাল, তেল, ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে প্রতিনিয়ত। সেই তুলনায় বাড়ে না মজুরি। ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠছে ক্রমেই’— ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
অনু ছত্রীর অভিজ্ঞতা ব্যতিক্রম নয়। একই ধরনের হতাশা ও ক্ষোভের কথা শোনা যায় অনেক শ্রমিকের কণ্ঠে। চা শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলোর একটি হলো ন্যায্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি।
জেরিন চা বাগানের শ্রমিক প্রতিমা মুন্ডার আক্ষেপ, ‘প্রতি বছর বাজেট হয়। কিন্তু আমাদের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭ টাকা। এ আয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই কঠিন।’
চা শ্রমিকরা বলছেন, বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়েনি তাদের আয়। ফলে প্রকৃত অর্থে কমেছে তাদের ক্রয়ক্ষমতা। চা-শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন সেই অনুপাতে হয়নি বলেও মনে করেন তারা।
শুধু মজুরি নয়, চা বাগান এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও আবাসন নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। বিভিন্ন বাগান এলাকায় দেখা গেছে, বিশুদ্ধ পানির সংকট, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং জরাজীর্ণ শ্রমিক লাইন এখনো বাস্তবতা।
চা শ্রমিক সোনিয়া রবিদাসের প্রত্যাশা, তাদের সন্তান স্বাস্থ্য ও শিক্ষালাভের সুযোগ পাবে। এ দুই খাতে আরও কার্যকর উদ্যোগ দরকার বলে মনে করেন তিনি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগের অভাব চা শ্রমিক পরিবারগুলোকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আটকে রাখছে একই দারিদ্র্যচক্রের মধ্যে। তাদের অনেকেই মনে করেন, জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান স্বীকৃতি পেলেও বাস্তব জীবনে সেই স্বীকৃতির প্রতিফলন খুব কম।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পঙ্কজ কন্দ বললেন, ‘অধিকাংশ শ্রমিকই বাজেট সম্পর্কে জানেন না বিস্তারিত। তাদের নিজস্ব ভিটেমাটি নেই। ভূমির অধিকার থেকেও বঞ্চিত। অতীতের বিভিন্ন সরকারের সময়ে দাবিদাওয়ার বিষয়গুলো বাজেটে খুব একটা গুরুত্ব পায়নি।’




