মৎস্য বিভাগের প্রতিবেদন
বন্যায় মৎস্য খাতে ক্ষতি প্রায় দেড় কোটি টাকা

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় খাগড়াছড়ি জেলায় মৎস্য খাতে প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিদের তালিকা প্রণয়নের কাজ করছে মৎস্য বিভাগ।
খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদের সই করা মৎস্য বিভাগের ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলার ৯ উপজেলায় ৩৯০টি পুকুর বা দীঘি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আয়তন ৮৫ হেক্টর। পুকুর বা দীঘি থেকে ৩৩ টন মাছ ও ১২ লাখ পোনা বেরিয়ে গেছে। ক্ষতি হওয়া মাছের আনুমানিক মূল্য ৬৭ লাখ টাকা ও পোনার মূল্য ৪১ লাখ টাকা। অবকাঠামোসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
দীঘিনালা, মহালছড়ি ও মাটিরাঙ্গা উপজেলায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মহালছড়ি উপজেলার মুবাছড়ি ইউনিয়নের মাছ চাষি রিপন চাকমা বলেছেন, ‘আমরা পুকুরের বাঁধের ওপর জাল দিয়ে ঘিরে রেখেছিলাম। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তা টিকেনি। পুকুরের সব মাছ বেরিয়ে গেছে। পুকুরে অন্তত তিন থেকে ৪ লাখ টাকার মাছ ছিল।’
একই উপজেলার মাইচছড়ি ইউনিয়নের কালাডেবা এলাকার মৎস্য খামারি ফরিদ মিয়ার ভাষ্য, বন্যা ও বৃষ্টির জন্য আমরা সতর্ক ছিলাম। কিন্তু টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বিলের পানি বেড়ে যায়। ফলে মাছ ও পোনা ভেসে গিয়ে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ছোট মেরুং এলাকার মোক্তার হোসেন জানিয়েছেন, দেড় মাস আগে পুকুরে পোনা ছেড়েছিলেন তিনি। বন্যায় পুকুরের পানি বেড়ে সব মাছ ভেসে গেছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পরে মৎস্য বিভাগ থেকে পোনা, মাছ, খাদ্য, চুন ইত্যাদি দিয়ে সহযোগিতা করা হবে তাদেরকে।
মৎস্য কর্মকর্তা রাজু বললেন, ‘এখন মাছ চাষের প্রযুক্তি অনেক উন্নত। শীত মৌসুম বাদে বছরের যেকোনো সময় পুকুরে পোনা ছেড়ে মাছ চাষ করা সম্ভব। তাই মাছচাষিদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া এখনো সম্ভব।’





