ঠাকুরগাঁও
ওসির বিরুদ্ধে ডিআইজির কাছে অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ বাড়ীর বিরুদ্ধে রংপুর উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক কৃষক। অভিযোগে ওসির পাশাপাশি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সফিকুল ইসলাম, ইউপি সদস্য রমজান আলী ও আলু ব্যবসায়ী মাসুদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মিথ্যা মামলায় হয়রানি ও জেল খাটানোর অভিযোগ তুলে প্রতিকার চেয়ে এ অভিযোগ করেন উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের দিহট গ্রামের কৃষক গুমানি। গত ৮ জুন তিনি ডাকযোগে ডিআইজি, ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার এবং রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবে অভিযোগের অনুলিপি পাঠান। অভিযোগপত্রে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কৃষক গুমানি তার এলাকার আলু ব্যবসায়ী মাসুদের কাছে ১০৬ বস্তা আলু ৯১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরে পাওনা টাকা চাইলে মাসুদ তাকে ধর্মগড় বাজারে যেতে বলেন। সেখানে গেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য রমজান আলী বিষয়টির দায়িত্ব নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেন।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা না পাওয়ায় গুমানি রাণীশংকৈল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওসি বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন এসআই সফিকুল ইসলামকে। অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্তের পরও টাকা আদায়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় একপর্যায়ে ওসি তাকে জানান, টাকা আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি যেন নিজেই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
এরপর হরিপুর উপজেলার বনগাঁও বাজারের একটি হোটেলে ইউপি সদস্য রমজান আলীর সঙ্গে দেখা হলে গুমানি তার পাওনা টাকার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় রমজান আলী টালবাহানা করলে গুমানি তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চাবি নিজের কাছে রেখে দেন।
অভিযোগে বলা হয়, রমজান আলী মোটরসাইকেল ও চাবি রেখে সেখান থেকে চলে যান। পরে তিনি বাদী হয়ে কৃষক গুমানির বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করেন। গুমানির দাবি, ঘটনার প্রকৃত বিষয় জানার পরও ওসি তার অজান্তে মামলাটি রুজু করেন।
গুমানি আরও জানান, মোটরসাইকেলটি পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য এজাবুলের কাছে জমা রাখা হয়। পরদিন তিনি বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সফিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসআই সফিকুল তাকে দেখে ওসিকে ফোন করেন এবং ওসির নির্দেশে তাকে থানার হাজতে আটক করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর ১১ দিন কারাভোগ শেষে তিনি ঠাকুরগাঁও আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
আজ মঙ্গলবার মোবাইল ফোনে গুমানির সঙ্গে কথা হয়। বলেছেন, ‘আমার আলুর টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেছে মাসুদ ও ইউপি সদস্য রমজান আলী। তাদের সহযোগিতা করে ওসি ও এসআই আমাকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটিয়েছেন। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘ওসি যা নির্দেশ দিয়েছেন, আমি সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ বাড়ী বলেছেন, ‘গুমানি যার কাছে টাকা পাবে তাকে না ধরে ইউপি সদস্য রমজান আলীর মোটরসাইকেল আটকে রাখে। এ ঘটনায় রমজান আলী থানায় এজাহার দিয়েছেন। তাই আইন অনুযায়ী মামলা নেওয়া হয়েছে।’




