খন্দকার মারুফ
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিএনপির কাছেই বেশি নিরাপদ

ছবি: আগামীর সময়
দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্য ধর্মের মানুষ বিএনপির কাছেই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন- 'ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার'। সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর-এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
আজ রবিবার দাউদকান্দি পৌর সদরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দাউদকান্দি এবং মেঘনা উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা উত্তর জেলার আহ্বায়ক দুলাল দেবনাথের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম। সঞ্চালনা করেন দাউদকান্দি পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক মধু চন্দ্র সরকার।
দাউদকান্দি উপজেলা, পৌর এবং মেঘনা উপজেলার ৬১টি দুর্গাপূজা মণ্ডপ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতা এই সভায় যোগ দেন। ড. খন্দকার মারুফ ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং ৬১টি দুর্গাপূজা মণ্ডপকে আর্থিক অনুদান দেন।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, আ.লীগের সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দিন কেটেছে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতায়। এই বছর আপনারা শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে-নিরাপদে উদযাপন করতে পারবেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার কঠোর নজরদারি ও আইনিব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপির অভিধান কিংবা সংবিধানে সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই। জাতিসত্তার পরিচয় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, উপজাতিসহ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। ফ্যাসিস্ট আ.লীগের সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্য ধর্মের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। নিরাপদে পূজা উৎসব পালন করতে পারেনি। সংখ্যালঘু তকমা দিয়ে আ.লীগ এসব ধর্মের মানুষের ওপর নির্মম জুলুম-নিপীড়ন চালিয়েছে।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, দুর্গাপূজা হচ্ছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব, যা মূলত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও সত্যের বিজয়ের প্রতীক।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি মহামিলনের উৎসব। দেবী দুর্গা মহাশক্তির প্রতীক। মহিষাসুর বধের মধ্য দিয়ে যেমন অশুভ শক্তির পতন ঘটেছিল, তেমনি আমাদের মধ্যেও যেন সব অন্যায়, ভেদাভেদ ও অকল্যাণ দূর হয়, আজকে এই শুভকামনা করছি।
ড. মারুফ বলেন, মহালয়া থেকে শুরু করে দশমী পর্যন্ত দিনগুলোতে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দ ভাগ করে নেয়। পূজামণ্ডপগুলো হয়ে ওঠে সম্প্রীতি ও মিলনের কেন্দ্রবিন্দু। আসুন আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তুলি। সবার জীবনে শারদীয় দুর্গোৎসব বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও আনন্দ।
ড. খন্দকার মারুফ শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনকালে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতন্ত্র প্রহরী হয়ে দায়িত্ব পালন করার জন্য বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, মেঘনা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী, বিএনপি নেতা জসিমউদ্দিন আহমেদ, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, পিটার চৌধুরী, আবদুস সাত্তার, কাউসার আলম সরকার, আরিফ মাহামুদ, ভিপি শাহাবুদ্দিন ভুইয়া, শরীফ চৌধুরী, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট মেঘনা উপজেলার রতন সাহা, দাউদকান্দির যুবরাজ দত্ত, অশোক সাহা ও রাধেশ্যাম মিত্র প্রমুখ।





