ছাত্রদলের আপত্তিতে ৩২০ বই সরাল জেলা প্রশাসন

সংগৃহীত ছবি
বুধবার বেলা ১১টা। রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে ছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের একটি গাড়ি। হঠাৎ সেখানে হাজির ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতাকে নিয়ে লেখা বেশকিছু বই নিয়ে আপত্তি তাদের। কিছুক্ষণ পর গ্রন্থাগারের গাড়িটি চালকসহ নিয়ে যাওয়া হলো জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে। সেখানে বইগুলো নিয়ে আপত্তির কথা তুলে ধরা হলো জেলা প্রশাসকের সামনে। খবর পেয়ে ছুটে এলেন দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা গাড়িটি ঘুরে দেখে আপত্তি ওঠা বইগুলো করলেন আলাদা। এরপর ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হলো বইগুলো দ্রুত গাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলার। আইনগত কোনো নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে অন্তত ৩২০টি বই। তবে বই সরানোর এ পদ্ধতি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এমন উদ্যোগ বেআইনি বলে গণ্য হবে— মনে করছেন আইনজীবীরা।
সাধারণ মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয় ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার। যার কার্যক্রম বিস্তৃত দেশের নানা প্রান্তে।
রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের গাড়িটি নিয়ে যাওয়া হয় ডিসির কার্যালয়ে। লিমনের দাবি, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে আওয়ামী লীগ সরকার ও দলীয় নেতাদের নিয়ে ৩২০টিরও বেশি বই ছিল। তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদের পতনের পরও এসব বই পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল। এর মাধ্যমে আবারও জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে।’
এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত শাখা এবং বাণিজ্য ও ট্রেড শাখা) বোরহান উদ্দিন অন্তর জানালেন, বইগুলো আলাদা করে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমের কাছে হস্তান্তর এবং সেগুলো অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলছিলেন, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করা হয়েছে, ভবিষ্যতে এসব বই বা সাবেক সরকারের প্রশংসাসূচক কোনো বই ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে রাখা হবে না, কিংবা কোনো স্থানে নেওয়া হবে না।
যদিও এভাবে বই অপসারণ আইনগতভাবে যুক্তিযুক্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজিম উদ্দিন বলছিলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, এটি ঠিক আছে। কিন্তু শেখ মুজিব কিংবা শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বই আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়নি। সুতরাং এসব বই বহন করা কিংবা পড়া আইনগতভাবে নিষিদ্ধ নয়। যেহেতু আইনগতভাবে নিষিদ্ধ নয়, সেহেতু এসব বই বাজেয়াপ্ত করা কিংবা সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ গ্রহণ করা বেআইনি বলে গণ্য হবে।’




