কালীগঙ্গায় অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা, হামলায় আহত ৭

সংগৃহীত ছবি
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় কালীগঙ্গা নদীতে জেগে ওঠা চরে খননযন্ত্র বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় লোকজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছেন। তাদের মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের পূর্ব কুশন্ডা সড়কঘাট এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।
আহত ব্যক্তিরা হলেন বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপট্টি গ্রামের আবুল কাশেম (৪৫), পলাশ মিয়া (২২), আবদুল মান্নান (৫০), নান্নু মিয়া (৪৫), মো. জাহিদ (২০) এবং বানিয়াজুড়ী ইউনিয়নের জাবরা গ্রামের মো. শামীম মুন্সি (৩৩) ও মো. রুবেল আলী (৩৫)। তাদের মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া জাহিদ নামের আরেক তরুণকে দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ব কুশন্ডা গ্রামের পাশে কালীগঙ্গা নদীতে জেগে ওঠা চরে আহত ব্যক্তিদের জমি রয়েছে। সোমবার দুপুরে তারা জানতে পারেন, ওই চরে শক্তিশালী খননযন্ত্র বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে বেলা ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তারা সেখানে গিয়ে বালু উত্তোলনে বাধা দেন।
এ সময় বালু উত্তোলনকারীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বালু উত্তোলনকারীরা সেখান থেকে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক একটি বালুবাহী বাল্কহেডে করে সেখানে এসে তাদের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন আহত ব্যক্তিরা। এ সময় লোহার রড, পাইপ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাদের মারধর করা হয়। এতে সাতজন গুরুতর আহত হন।
পরে হামলার খবর মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হলে গ্রামের নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। এ সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সন্ধ্যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, বানিয়াজুড়ী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পেচারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সম্রাট মিয়া, সাইংজুড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আল-আমিন এবং সিংজুরী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার হোসেনসহ আরও ২৫ থেকে ৩০ জন তাদের ওপর হামলা করেছেন।
চিকিৎসাধীন শামীম মুন্সি জানান, কালীগঙ্গা নদীর তীরে ওই চরে তাদের ৪ থেকে ৫ বিঘা জমি রয়েছে। সেখানে ভুট্টা ও বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ করেছেন তারা। এসব জমি নদীতে বিলীন হওয়ার হাত থেকে রক্ষায় বালু উত্তোলনে বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা করা হয়।
তবে ছাত্রদল নেতা সম্রাট মিয়া এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, এ সময় শিবালয় উপজেলার বরঙ্গাইল এলাকায় আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা লোকমান হোসেনের দাবি, তারা কয়েকজন মিলে ওই চরের জমি কিনে নিয়েছেন। বৈধভাবেই ওই স্থান থেকে বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয় কিছু লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ঘিওর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




