সুন্দরবনসংলগ্ন ১৮ রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ

দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী, কৈলাশগঞ্জ ও বানিশান্তা এলাকায় গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন ১৮টি রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ। ছবি: আগামীর সময়
সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী, কৈলাশগঞ্জ ও বানিশান্তা এলাকায় গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন ১৮টি রিসোর্ট বন্ধের চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ করে স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও নিয়মিত মামলা করাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকা ১০টি রিসোর্টকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ করে সব স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। নতুন করে গড়ে ওঠা আরও ৮টি রিসোর্টকে সাত দিনের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ এবং ১৫ দিনের মধ্যে সব স্থাপনা নিজ দায়িত্বে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালিকাভুক্ত ১৮টি রিসোর্ট হলো— অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়াবন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোলকানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস ও বনলতা ইকো কটেজ।
পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ গত রবিবার সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট মালিকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে এ নির্দেশ দেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হারুন-অর-রশীদ আরও জানালেন, সুন্দরবনসংলগ্ন ঢাংমারী, কৈলাশগঞ্জ ও বানিশান্তা এলাকায় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত ১৮টি রিসোর্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেছেন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া রিসোর্ট নির্মাণের দায়ে এর আগে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল। মালিকপক্ষ নোটিসের জবাব দিয়ে অনুমোদনের আবেদন করলেও প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দাখিল করতে পারেনি। ফলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের আবেদন বাতিল করা হয়। এরপর তাদের কার্যক্রম বন্ধের চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, নতুন করে গড়ে ওঠা ৮টি রিসোর্টকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে এ সময়ের মধ্যে মালিকপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় সাত দিনের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ এবং ১৫ দিনের মধ্যে সব স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




