বারবার হামলার শিকার দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একই পরিবারের ৪ সদস্য

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের চারজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহতের অভিযোগ উঠেছে। আহত চারজনই শিয়াল কোট আলিম মাদ্রাসা ও শিয়াল কোট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারী। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মামলা হলেও তিন দিনেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে মরনাই শিয়াল কোট বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য। আহতরা হলেন মাদ্রাসার অফিস সহকারী মোজাম্মেল হক এবং তার তিন ভাতিজা সোহেল রানা, শাহজাদা ও রাশেদুল ইসলাম। একই পরিবারের আরও একজন সদস্য মোজাম্মেল হকের স্ত্রী ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
মোজাম্মেল হকের অভিযোগ, এলাকার চিহ্নিত কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় প্রথমে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা আবারও তার ওপর হামলা করেন। পরে শিয়াল কোট বাজারে তাকে ও তার তিন ভাতিজাকে ধাওয়া করে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাদের জিম্মি করে আবারও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রবিবার সকালে মুঠোফোনে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘হামলাকারীরা আমাকে চিরতরে পঙ্গু করার উদ্দেশ্যে বাম হাতের তিনটি আঙুল ভেঙে দিয়েছে। এছাড়া তাদের লাঠির আঘাতে আমার ডান পা ও কোমরের হাড় ফেটে গেছে।’
তিনি জানান, হামলায় রাশেদুল ইসলামের দুই পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে গেছে। সোহেল রানার চোয়ালের হাড়ও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের একজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অপরজন দিনাজপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ১৭ সেপ্টেম্বর পার্বতীপুর মডেল থানায় মোতালেব হোসেন বাচ্চু, মুক্তারুল ইসলাম, আক্তারুল ইসলাম, মো. মাসুম, মো. আরমান আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও আট থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মোজাম্মেল হক। মামলাটির নম্বর ২১।
মামলার বাদী অভিযোগ করেন, মামলা করার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ের সামনে ঘোরাফেরা করছেন এবং তাকে ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। আসামিদের হামলার ভয়ে তার ভাতিজারা কর্মস্থলে যেতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও রহস্যজনক নির্লিপ্ততার সুযোগে গত দুই সপ্তাহে তাদের ওপর দুই দফা হামলা হয়েছে। মামলা করার পর তারা আরও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পার্বতীপুর মডেল থানার এসআই সাহেব আলী বলেন, আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না।




