দৌলতদিয়ায় বাস ডুবি
ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী, তদন্তে দুই কমিটি

ছবি: আগামীর সময়
গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে একটি বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান নৌপ্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ৭ নম্বর ফেরিঘাটে করবী ফেরিতে ওঠার সময় এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির র্যাম্প ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তবে ফেরিতে ওঠার আগে বাসের যাত্রীদের নামিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা কার্যকর থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নৌপ্রতিমন্ত্রী জানালেন, বাসটি যে ফেরিতে ওঠার কথা ছিল, সেটিতে না উঠে দ্রুতগতিতে পাশে থাকা একটি ফেরির র্যাম্পে আঘাত করে। এতে র্যাম্প ভেঙে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথক তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।
তিনি জানিয়েছেন, ‘এ ঘটনায় কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা ছিল কি না, তা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং ঘাটসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখবে। প্রাথমিকভাবে আমাদের নজরে কোনো বড় ধরনের অনিয়ম আসেনি।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বললেন, ‘বাস থেকে সব যাত্রীকে নামিয়ে ফেরিতে ওঠানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করাই আজকের দুর্ঘটনায় বহু প্রাণ রক্ষা করেছে। দেশের ইতিহাসে এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগে এতটা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়নি।’
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বাসের যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের শারীরিক অবস্থা ও ফিটনেসসহ সব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা হবে। চালক ও তার সহকারী সুস্থ হওয়ার পর তাদের বক্তব্যও নেওয়া হবে।’
পরিদর্শনের সময় বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, নৌপুলিশ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এবং ডুবুরি দলের সহায়তায় দুপুর ১২টার দিকে বাসটি নদী থেকে টেনে তোলা হয়। পরে যাত্রীদের মালামাল যাচাই-বাছাই শেষে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি রেকারের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার পর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ফেরি চলাচল ও যানবাহন পারাপার সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়।




