নাঙ্গলকোটে ছাগল বিক্রির বিরোধের পর নিখোঁজ, চার দিন পর মিলল মরদেহ

খাল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার। গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পদুয়ারপাড় খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ।
নিহত আবদুল কাদের (২৪) পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পর নিহতের পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে পাওয়া যাচ্ছে না।
নিহত আবদুল কাদের হেসাখাল ইউনিয়নের কুরকুটা গ্রামের লিটনের ছেলে। বর্তমানে তাদের পরিবার আদ্রা উত্তর ইউনিয়নের কুরকুটা-ভুলইন-নাথেরপেটুয়া খালের পাড়ের মেরকট এলাকায় বসবাস করত।
সোমবার সকালে পদুয়ারপাড় খাল থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মরদেহের বাম চোখের পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত বৃহস্পতিবার বাড়ির একটি ছাগল বিক্রিকে কেন্দ্র করে কাদেরের সঙ্গে তার বাবা লিটন, ছোট ভাই রাকিব ও মা কাজল বেগমের বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই ঘটনার চার দিন পর খাল থেকে কাদেরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা, ছোট ভাইসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ও ফরিদ আহমেদ বলছিলেন, ‘আমাদের গ্রামে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাজ্জাদ হোসেন জানান, নিহত কাদেরের স্ত্রীকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেছেন, ‘লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। আমাদের তিনটি টিম ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।’




