গাংনীর পথে পথে ঘুরছেন ‘ভারত থেকে আসা’ রোজিনা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পথে পথে ঘুরতে থাকা এক নারীকে নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। চোখেমুখে তার আতঙ্ক। কখনও বলছেন, এসেছেন ভারত থেকে, বাড়ি চট্টগ্রামে। কখনও মনে করতে পারছেন না কিছুই। স্থানীয়দের ধারণা, গত ৬ জুন সীমান্তে বিএসএফের পুশইনে এপারে চলে এসেছেন ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ এই নারী।
সেদিন তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১০৪ নম্বর মেইন পিলারের ৫ নম্বর সাব-পিলার দিয়ে ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় ব্যর্থ হয় সেই চেষ্টা। ভারতের দিকে ফিরে যায় দলটি।
স্থানীয়দের দাবি- এ ঘটনা যখন ঘটছিল তখন সীমান্তের ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৪ এস সাবপিলার এলাকা দিয়ে সাতজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় বিএসএফ। তাদের মধ্যে ছিলেন এই নারী। অন্যরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলে গেলেও তিনি রয়ে গেছেন গাংনীতে।
পীরতলা গ্রামের টগর খাতুনের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া গেল ওই নারীকে। রাস্তায় উদভ্রান্তের মতো ঘুরতে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন টগর। তিনি বলেছেন, ‘চার-পাঁচ দিন হলো তাকে আমাদের গ্রামে দেখা যাচ্ছে। আমরা তার সঙ্গে কথা বলে জেনেছি তিনি ভারত থেকে এসেছেন। বিভিন্ন সময় খাবার খেতে দিলেও তার স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারছি না।’
নাম জানতে চাইলে ওই নারী নিজেকে ‘রোজিনা’ বলে পরিচয় দেন। বাড়ি চট্টগ্রামের পুঠিয়ায়, বাবা আব্দুল খালেক, মা ফাতেমা ও ভাই আব্দুর রহমান বলেও জানালেন তিনি।
তবে টগর খাতুনসহ কয়েকজন জানালেন, এর বাইরে আর কিছুই বলতে পারেন না ‘রোজিনা’। অনেক সময় কিছুই মনে করতে পারেন না। আবার কখনও বলে ওঠেন, ভারতের কোনো কারাগারে ছিলেন এতদিন।
গ্রামের আরেক বাসিন্দা আলতাব হোসেন বলেছেন, ‘২৫-৩০ বছরের মেয়েটি এদিক-ওদিক ঘুরছে, রাতে খোলা আকাশের নিচে থাকছে। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি।’
‘রোজিনা মাঝে মাঝে কথা বলছে। তার নিরাপত্তা প্রয়োজন। প্রশাসন তার আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করলে কোনো অঘটন ঘটলে তার দায়ভার কে নেবে’- প্রশ্ন তুললেন জাহানারা খাতুন নামে আরেকজন।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘রোজিনা নামের মেয়েটির বিষয়ে শুনেছি। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনকে কিছু জানানো হয়নি। আগে নিশ্চিত হতে হবে মেয়েটি মানবপাচারের শিকার কি না এবং তিনি বাংলাদেশের নাকি ভারতের নাগরিক।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হলে আমরা প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেব। নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় তার প্রকৃত ঠিকানা শনাক্ত করে সেখানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
অন্যদিকে মেহেরপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পারসন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেছেন, ‘আমাদের ভবানীপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ বিষয়টি যথাযথভাবে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।’






