কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৭৩ জন আদালতে, ৪৫১ জন মুক্ত

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক ৬২৪ জনের মধ্যে ১৭৩ জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিনভর আটক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকালে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
এর আগে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালায় পুলিশ। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে রাতভর চলা এ অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, ছিনতাইকারী, মাদকসেবী, মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন।
দিনভর যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, মোবাইল কোর্ট, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং আদালতের পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। অন্যদিকে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
বুড়িচং থানার ওসি মো. লুৎফুর রহমান জানান, তার থানা এলাকায় ৬২ জনকে আটক করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরবর্তী সময়ে সংশোধনের জন্য পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
নিজের সন্তানকে ছাড়িয়ে নিতে আসা বুড়িচংয়ের বাকশীমুল গ্রামের এক অভিভাবক বলেন, পুলিশের এই অভিযান কিশোর অপরাধী ও তাদের পরিবারের জন্য একটি বার্তা। সন্তান যাতে ভবিষ্যতে বিপথগামী না হয়, সে জন্য বাবা-মাসহ পরিবারের দায়িত্বশীলদের আরও নজরদারি করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার আগামীর সময়কে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেছেন, ‘আমাদের এই অভিযান সংশ্লিষ্ট কিশোর অপরাধী ও তাদের পরিবারের জন্য একটি মেসেজ। অভিযানে প্রকৃত অপরাধী যারা ধরা পড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এজন্য জেলার সব নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করছি।’





