রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যা
সবাইকে হারিয়ে নিঃস্ব রায়পুরের সিফাত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নিহত মা ও তিন মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত
যে ঘরে কিছুক্ষণ আগেও ছিল মা-বোনদের হাসি-কথার আওয়াজ, সেই ঘরই এখন যেন নিস্তব্ধ মৃত্যুকূপ। মেঝেজুড়ে রক্ত, স্বজনদের আহাজারি— সব মিলিয়ে এক বিভীষিকাময় দিন পার করলেন রায়পুরের সিফাত। একদিনের ব্যবধানে মমতাময়ী মা ও আদরের বোনদের হারিয়ে নিঃস্ব তিনি।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্তব্ধ গোটা দেশ। নৃশংস এই হামলায় নিহত হয়েছেন শাহিনুর বেগম (৪২) এবং তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিপা আক্তার (৮)। এদিকে হামলার পর পালানোর সময় স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে নিহত হন অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (২৮)। বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার ঘটনা এটি।
স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, সাড়ে ছয় বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান পরিবারের কর্তা কামাল হোসেন। এরপর চার সন্তানকে নিয়েই সংগ্রাম করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন শাহিনুর বেগম। রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বড় ছেলে সিফাত হোসেন। ঘটনার দিনও প্রতিদিনের মতো সকালে কর্মস্থলে যান তিনি। পরে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে বাড়িতে এসে রক্তাক্ত দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
সাইফুল ইসলাম মুরাদ জানান, ‘সকালে সিফাত কাজে এসেছিল। তখন সে কিছুই জানত না। পরে মায়ের ও তিন বোনের হত্যার খবর শুনে ঘটনাস্থলে যায়। এরপর থেকে সে আতঙ্কগ্রস্ত। সে কারও সঙ্গে কথা বলার অবস্থায় নেই।’
স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালে এলেও সিফাত কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। কিছু সময় গাড়ির ভেতরে নির্বাক হয়ে বসে ছিলেন। তার চোখে-মুখে ছিল অসহায় শোকের ছাপ।
প্রতিবেশীরা আক্ষেপ করে জানান, বাবার মৃত্যুর পর ছোট বয়স থেকেই সিফাত সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল। মা ও তিন বোনকে নিয়ে কষ্টের মধ্যেও তাদের জীবন চলছিল। এখন একদিনেই সে পৃথিবীতে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেল। কীভাবে সে বাকি জীবন পার করবে, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে।
চিকিৎসকরা জানান, নিহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিল ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত। মেজো মেয়ে ইকরার আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে তার ফুসফুস পর্যন্ত বাইরে বেরিয়ে আসে।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেকের ভাষ্য, প্রায় দেড় বছর ওই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন অন্তর। সাত থেকে আট মাস আগে বাসা ছেড়ে চলে যান তিনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বপরিচিত হওয়ায় ওই বাসায় প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড ঘটান অভিযুক্ত। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মিয়া জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে হাসপাতালের মর্গে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে মরদেহ।






