বন সম্মেলনের বার্তা
এআই কেবল গতি বাড়াবে, বিশ্বাসযোগ্যতা আসবে মাঠের সাংবাদিকতা থেকে

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সম্মেলন ‘ডিডব্লিউ গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম ২০২৬’। ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, অপতথ্যের বিস্তার এবং সাংবাদিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও ডিজিটাল চাপের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে জার্মানির বন শহরে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সম্মেলন ‘ডিডব্লিউ গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম ২০২৬’।
এ সম্মেলনের সমাপনী বার্তায় অংশগ্রহণকারীরা ঐকমত্যে পৌঁছান যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংবাদকক্ষের কাজের গতি বাড়াতে পারে, কিন্তু সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।
জার্মান আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সংস্থা ডয়চে ভেলের আয়োজনে ২৩ থেকে ২৪ জুন বন শহরের ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সেন্টার বনে অনুষ্ঠিত হয় এই সম্মেলন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জার্নালিজম আউট লাউড’। সম্মেলনে অংশ নেন বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশের সাংবাদিক, সম্পাদক, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং মানবাধিকারকর্মীরা।
সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশন ও প্যানেল আলোচনায় বক্তারা তুলে ধরেন, বর্তমান সময়ে সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সংকট তথ্যের অভাব নয়, বরং বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ঘাটতি। তথ্যের বিস্ফোরণ ঘটলেও মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাইয়ের ঘাটতি বৈশ্বিক অপতথ্য ও তথ্যযুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলছে।
আলোচকরা উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিপফেক প্রযুক্তি সংবাদকক্ষের কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়ালেও একই সঙ্গে তৈরি করছে ভুয়া তথ্য, সেন্সরশিপ এবং সূক্ষ্ম প্রচারণার নতুন ঝুঁকি। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক চাপ এবং ডিজিটাল নজরদারি বৃদ্ধির বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
সম্মেলনে বক্তব্য ও আলোচনায় অংশ নেন ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক পিটার লিমবুর্গ, জার্মানির উত্তর রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের চ্যান্সেলরি প্রধান নাথানায়েল লিমিনস্কি, মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সাহানা উদুপা, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ আন্যা শিফরিন, ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষক কার্ল মিলার, সাংবাদিক সুরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান নির্বাহী জোডি গিন্সবার্গ, অধ্যাপক মেল বান্স, ব্রিটিশ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব লুইস গুডঅল এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিক ফিসায়ো সায়োম্বো।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো, ইউরোপীয় প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া ফ্রিডম সেন্টার এবং মিডিয়া ডাইভারসিটি ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরাও।
সম্মেলনে আঞ্চলিক সাংবাদিকতার বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে স্বাধীন সাংবাদিকতা, সেন্সরশিপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন তারা। পাশাপাশি মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ নিশ্চিতে বৈশ্বিক সহযোগিতা ও সংহতির প্রয়োজনীয়তার ওপর আরোপ করেন গুরুত্ব।
সম্মেলনের সমাপনী ঘোষণায় অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি সাংবাদিকতার ধরন ও কর্মপদ্ধতি বদলে দিতে পারে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা কখনো শেষ হবে না। সত্য অনুসন্ধান, ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থ রক্ষা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, এই দায়িত্বের বিকল্প তৈরি হবে না।





